এত কেন অহংকার

 


কোনো মানুষের মৃত্যুর পর তার দেহ পচতে শুরু করে, যাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় “ডিকম্পোজিশন (Decomposition)” বলা হয়। এই প্রক্রিয়াটি ঘটে দেহে স্বাভাবিকভাবে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলোর কারণে। এসব ব্যাকটেরিয়া শরীরের টিস্যু ভাঙতে শুরু করে, যার ফলে অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড ও মিথেনের মতো বিভিন্ন গ্যাস নির্গত হয়। এসব গ্যাসের কারণেই মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়।


বিজ্ঞান বলে, মানুষের মৃত্যুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দেহ ঠান্ডা হতে শুরু করে এবং যতক্ষণ না দেহ সেই ঘরের তাপমাত্রার সমান হয়—যেখানে লাশ রাখা আছে—ততক্ষণ এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এই সময়ের মধ্যেই মানুষের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে কাজ করতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। মৃত্যুর পরও প্রায় দশ মিনিট পর্যন্ত মস্তিষ্ক জীবিত থাকে, কারণ সে শরীরের বিভিন্ন কোষ থেকে অক্সিজেন ও রক্ত টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। মস্তিষ্ক নিজেকে এবং শরীরকে বাঁচিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। যেন মস্তিষ্কও মরতে চায় না।


চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, মানুষের মৃত্যুর মাত্র এক মিনিট পর থেকেই দেহ শুকিয়ে যেতে ও পচন ধরতে শুরু করে এবং শরীরের ভেতরের কোষগুলো মারা যেতে থাকে। মৃত্যুর এক ঘণ্টা পর শরীরে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ—যেমন প্রস্রাব ইত্যাদি—বের হয়ে যায়। এরপর পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের কারণে রক্ত শরীরের নিচের অংশে জমা হতে থাকে, ফলে ত্বকের রঙ বদলাতে শুরু করে। একই সঙ্গে শরীরে সাদা দাগ দেখা দেয়, যা মৃতদেহ পচনের প্রাথমিক লক্ষণ।


মৃত্যুর একদিন পর দেহের পেশিগুলো ভাঙতে শুরু করে এবং দুর্গন্ধ আরও স্পষ্ট হয়, কারণ তখন শরীর থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ বের হতে থাকে। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর, যদি লাশ কবর দেওয়া হয়, তাহলে মাটিতে থাকা পোকামাকড়—যেমন ম্যাগটস (maggots)—দেহ খেতে শুরু করে এবং মাত্র এক সপ্তাহেই তারা শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ অংশ খেয়ে ফেলে। হ্যাঁ, আপনি একদম ঠিকই শুনেছেন—মাত্র এক সপ্তাহে।


মৃত্যুর এক মাস পর মানুষের চুল, নখ ও দাঁত ঝরে যেতে শুরু করে। ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পচে তরলের মতো হয়ে যায়, যার ফলে দেহ ফুলে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত ফেটে যায়। এরপর শুধু একটি ফাঁকা কঙ্কালই অবশিষ্ট থাকে।


আমরা মানুষ কতটাই না দুর্বল! তবুও কেউ কেউ নিজেদের সীমা ভুলে যায়। এটাই আমাদের আসল বাস্তবতা।

Comments

Popular posts from this blog

মহাকাশে এক বিশাল সমুদ্র

আমি কেন আল্লাহকে মানি ?

মেরাজের যাত্রা টেলিস্কোপ এবং ধারণার বাইরে