মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় জিনিস কোনটা?
মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় জিনিস কোনটা?
সূর্যের চেয়ে ৩২০ গুণ ভারী তারার (যেমন R136a1, যার জন্মকালীন ভর প্রায় ৩২০ সৌর ভর, বর্তমানে প্রায় ২৯০ সৌর ভর) আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এই অসীম বিশাল মহাবিশ্বে আসলে সবচেয়ে বড় কী? বড়-ছোটের আলোচনা আমরা প্রতিদিনই শুনি—মানুষ থেকে দেশ, গ্রহ, সবকিছুতেই। কিন্তু এই বিশাল মহাবিশ্বে আমাদের পৃথিবীর অবস্থান? সম্ভবত এক ফোঁটা জলের মতোই নগণ্য!
সাম্প্রতিককালে সূর্যের চেয়ে ৩২০ গুণ ভারী তারা আবিষ্কৃত হয়েছে। এর আগে সবচেয়ে বড় তারার আকার ধরা হতো সূর্যের প্রায় ১৫০ গুণ।
বিজ্ঞানীরা বলেন, তারার আকার যত বাড়ে, তার ভেতরের শক্তি মহাকর্ষের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। ফলে তারা নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারে না—ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াতেই গ্যালাক্সি ও সৌরজগতের জন্ম হয়েছে।
এই অতি-বিশাল তারার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এত বড় আকারের কারণে সূর্যের মতো দীর্ঘকাল টিকে থাকা তার পক্ষে অসম্ভব।
সূর্যের কথা বললে—সে ৪.৬ বিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে আলো ও তাপ দিয়ে চলেছে, আর এখনও তার মোট ভরের এক শতাংশও শক্তিতে রূপান্তরিত হয়নি।
বিজ্ঞানীরা বলেন, মহাবিশ্বের মৌলিক ইট হলো তারা। একটি তারা সূর্যের মতো কেন্দ্র হয়ে চারপাশে গ্রহ ঘোরে। অনেক গ্রহের নিজস্ব চাঁদও থাকে।
অনেক তারা একসঙ্গে জড়ো হয়ে গ্যালাক্সি তৈরি করে। আরও অনেক গ্যালাক্সি মিলে ক্লাস্টার বা জটলা হয়। মহাবিশ্বে এমন অনেক ক্লাস্টার আবিষ্কৃত হয়েছে—যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টির নাম Hercules-Corona Borealis Great Wall (প্রায় ১০ বিলিয়ন আলোকবর্ষ লম্বা)।
এই Great Wall-এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ বিলিয়ন আলোকবর্ষ, প্রস্থও বিশাল। দূরত্ব মাপতে বিজ্ঞানীরা আলোকবর্ষ ব্যবহার করেন—এক আলোকবর্ষ মানে আলো যে দূরত্ব এক বছরে পাড়ি দেয়। আলোর গতি ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল প্রতি সেকেন্ড।
এই Great Wall-এর আবিষ্কার ২০১৩ সালে। এর আগে Sloan Great Wall ছিল সবচেয়ে বড়, কিন্তু এটি তাকে ছাড়িয়ে গেছে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, এটি আরও বড় হতে পারে—১৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ পর্যন্ত।
বিজ্ঞানীরা বলেন, এই ক্লাস্টারগুলো যদিও অনেক দূরে দূরে, তবু একটি অদৃশ্য শক্তি তাদের যুক্ত করে রেখেছে। এই শক্তিকে বলা হয় “কসমিক ওয়েব”—মহাবিশ্বের বিশাল জাল।
মহাবিশ্বের সবচেয়ে ছোট একক হলো অ্যাটম। কিন্তু অ্যাটমও সৌরজগতের মতো—একটি কেন্দ্র (নিউক্লিয়াস) আছে, যাতে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে। চারপাশে ইলেকট্রন ঘোরে।
সবচেয়ে সরল অ্যাটম হাইড্রোজেন—যার নিউক্লিয়াসে শুধু একটি প্রোটন, আর একটি ইলেকট্রন। বিজ্ঞানীরা বলেন, হাইড্রোজেন থেকে যে শক্তি বের হয়, তাই গ্যালাক্সি ও সৌরজগতের সৃষ্টির মূল কারণ। অর্থাৎ মহাবিশ্বের সবচেয়ে ছোট এককই সবচেয়ে বড় কাঠামোগুলোর জন্ম দেয়।
নতুন শক্তিশালী টেলিস্কোপ ও মহাকাশ গবেষণার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে—মহাবিশ্বের বিশালতায় গ্যালাক্সির ক্লাস্টার বা সুপারক্লাস্টারও খুব সাধারণ। এর চেয়েও অনেক বড় মহাজাগতিক কাঠামো আছে।
কসমিক ওয়েবের এই জটিল জাল দেখলে মনে হয় মহাবিশ্ব যেন একটি জীবন্ত নেটওয়ার্ক।
সম্ভবত এজন্যই জ্ঞানীরা বলেন—প্রত্যেক নতুন আবিষ্কারের সাথে আমাদের অজ্ঞতা আরও গভীর হয়। আমাদের জ্ঞান খুবই সীমিত, আর আমাদের অস্তিত্ব… সম্ভবত কিছুই না।
ছবিতে জালের মত য দেখতে পাওয়া হলুদ কণা গুলা হচ্ছে গ্যালাক্সি আর পার্পল লাইনগুলো হচ্ছে ফিলামেন্ট।

Comments
Post a Comment