যে চামড়ার গভীরে খুঁজছিল ব্যথার রহস্য,
সে একদিন সেই চামড়ার আয়াতেই খুঁজে পেল তার রবকে। ১৯৮১ সালের শীতের এক দুপুরে, রিয়াদের হলে, একজন বিজ্ঞানী কেঁদে ফেললেন শাহাদাহ পড়তে পড়তে।
যখন বিজ্ঞান হৃদয়ে এসে ধরা দেয়, তখন সত্য আর লুকিয়ে থাকে না।
তিনি ছিলেন প্রফেসর ডা. তেজাতাত তেজাসেন (Professor Dr. Tejatat Tejasen), থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান এবং মেডিকেল অনুষদের সাবেক ডিন। তাঁর হাতেই প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন হাজারো চিকিৎসক। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র ছিল মানুষের ত্বক—চামড়ার স্তর, স্নায়ু-শেষ, ব্যথার রিসেপ্টর। তিনি জানতেন, আগুনে পুড়ে গেলেও ব্যথা বোধ করার ক্ষমতা ত্বকের গভীরেই থেকে যায়।
১৯৮১ সাল। স্থান: রিয়াদ, সৌদি আরব।
অষ্টম সৌদি মেডিকেল কনফারেন্স চলছে। সেখানে কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানের মিল নিয়ে একটি সেশন হচ্ছিল। ডা. তেজাসেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল শুধু শ্রোতা হিসেবে। সেদিন তিনি শুনলেন সূরা আন-নিসা’র ৫৬ নম্বর আয়াত:
> «إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا سَوْفَ نُصْلِيهِمْ نَارًا كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُمْ بَدَّلْنَا لَهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا لِيَذُوقُوا الْعَذَابَ»
“যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, আমি তাদের আগুনে নিক্ষেপ করব। যখনই তাদের চামড়া পুড়ে যাবে, আমি তাদের জন্য অন্য চামড়া এনে দেব, যাতে তারা শাস্তি আস্বাদন করতে পারে।”
এই একটি আয়াতই তাঁর জীবন বদলে দিল।
কারণ ১৯৮১ সালের আগে পৃথিবীর কোনো চিকিৎসা গ্রন্থে এত স্পষ্টভাবে বলা ছিল না যে, ব্যথার অনুভূতি ত্বকের গভীর স্নায়ু-শেষে থাকে এবং ত্বক পুড়ে গেলেও নতুন ত্বক দিয়ে আবার ব্যথা অনুভব করানো সম্ভব। এই তথ্যটি আধুনিক বিজ্ঞান নিশ্চিত করেছে মাত্র কয়েক দশক আগে। কিন্তু ১৪০০ বছর আগে, মরুভূমির একজন মানুষ এই কথা বলেছিলেন যখন টেকনোলজি ছিলনা।
সেই মুহূর্তে প্রফেসর তেজাসেনের চোখ ভিজে গেল।
তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। হাজারো চিকিৎসকের সামনে, ১৯৮১ সালের ১০ ডিসেম্বর, তিনি শাহাদাহ পড়লেন:
«أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُولُ ٱللَّهِ»
তারপর তিনি বলেছিলেন:
“আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার এই যে, আমি আমার গবেষণার টেবিলেই আমার স্রষ্টাকে খুঁজে পেয়েছি।”
সেই সম্মেলন থেকে ফিরে তিনি আরো গভীরভাবে কুরআনের ভ্রূণবিদ্যা, অ্যানাটমি ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত আয়াত অধ্যয়ন করেন এবং আরো দৃঢ় বিশ্বাসী হন। তাঁর বক্তব্য শুনে সেই কনফারেন্সেই তাঁর পাঁচজন ছাত্রও ইসলাম গ্রহণ করেন।
আজও যখন কেউ তাঁকে জিজ্ঞেস করে, “আপনার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্ত কোনটি?”
তিনি শান্ত হেসে বলেন:
“১৯৮১ সালের সেই শীতের দিন, যেদিন আমি চামড়ার গভীরে খুঁজতে গিয়ে আমার রবের সাথে দেখা পেয়েছিলাম।”
“

Comments
Post a Comment