কুরআন মহাবিশ্ব এবং সাইন্স

 


মহাবিশ্বের সৃষ্টি কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়। আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, এটি একটি দীর্ঘ ও ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়া প্রক্রিয়া। প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সূচনা হয়। শুরুতে ছিল শুধু শক্তি, পরে ধীরে ধীরে কণা তৈরি হয়, কণা থেকে পরমাণু গঠিত হয় এবং সেগুলো মিলেই গ্যাসের বিশাল মেঘ তৈরি করে। এই গ্যাসের মেঘ থেকে প্রথম তারার জন্ম হয় এবং পরে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ গড়ে ওঠে। তারার ভেতরেই তৈরি হয় ভারী উপাদান, যেগুলো পরবর্তীতে গ্রহ ও পৃথিবীর মতো জ্যোতিষ্ক গঠনে ভূমিকা রাখে।


এই দীর্ঘ সময়ের অনেক পরে আমাদের সূর্য ও পৃথিবীর জন্ম হয়, প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে। পৃথিবী তৈরি হওয়ার পর তা সঙ্গে সঙ্গে বাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি। ধীরে ধীরে পৃথিবী ঠান্ডা হয়, পানি সৃষ্টি হয় এবং উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়। এরপর প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে জীবনের সূচনা ঘটে। প্রথমে এককোষী জীব, পরে বহুকোষী প্রাণী, মাছ, স্থলচর প্রাণী, স্তন্যপায়ী এবং দীর্ঘ বিবর্তনের পথে মানুষের আবির্ভাব ঘটে। আধুনিক মানুষ এসেছে একেবারেই সাম্প্রতিক কালে—মাত্র কয়েক লক্ষ বছর আগে।


অর্থাৎ সুন্দর ভাবে বলতে গেলে 


প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সূচনা হয়।

শুরুতে শুধু শক্তি ছিল, পরে কণা তৈরি হয়।

কণা থেকে পরমাণু (হাইড্রোজেন, হিলিয়াম) গঠিত হয়।

গ্যাসের মেঘ জমে প্রথম তারা সৃষ্টি হয়।

তারাগুলো মিলিয়ে গ্যালাক্সি তৈরি হয়।

তারার ভেতরে ভারী উপাদান (কার্বন, অক্সিজেন, লোহা) সৃষ্টি হয়।

অনেক পরে আমাদের সূর্য ও পৃথিবী জন্ম নেয় (প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে)।

পৃথিবীতে প্রথম জীবনের সূচনা হয় (প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে)।

তারপর জীবনের  সূচনা বিবরএককোষী  বহুকোষী,  মাছ,  স্থলপ্রাণী , স্তন্যপায়ী।

মানুষের আবির্ভাব হয় সবচেয়ে শেষে (প্রায় ২–৩ লক্ষ বছর আগে)।


এই ধারাবাহিকতার দিকে তাকালে কুরআনের বর্ণনার সাথে এক বিস্ময়কর মিল দেখা যায়। সূরা আন-নাজিয়াতের আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে 


ঠিক আছে। আগে সূরা আন-নাজিয়াত (৭৯:২৭–৩৩)–এর আয়াতগুলো আরবি মূল পাঠসহ বাংলা অনুবাদ দিচ্ছি। এরপর চাইলে আমি এই বিষয়ের উপর একটি সুন্দর মহাবিশ্ব–থিমের ছবি বানিয়ে দেব


أَأَنتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ السَّمَاءُ ۚ بَنَاهَا

তোমাদের সৃষ্টি কি বেশি কঠিন, না আকাশের? তিনি তা নির্মাণ করেছেন। ২৭


رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا

তিনি তার উচ্চতা উঁচু করেছেন এবং তাকে সুষম করেছেন।২৮


وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَاهَا

তিনি তার রাতকে অন্ধকার করেছেন এবং তার দিনকে উজ্জ্বল করেছেন। ২৯


وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَاهَا

এরপর তিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত ও প্রস্তুত করেছেন। ৩০


أَخْرَجَ مِنْهَا مَاءَهَا وَمَرْعَاهَا

তিনি তা থেকে তার পানি ও চারণভূমি বের করেছেন। ৩১


وَالْجِبَالَ أَرْسَاهَا

এবং পাহাড়সমূহকে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছেন। ৩২


مَتَاعًا لَكُمْ وَلِأَنْعَامِكُمْ

তোমাদের ও তোমাদের পশুপাখির উপকারের জন্য। ৩৩


সন্মানিত পাঠক বৃন্দ লক্ষ্য করুন 


 প্রথমে আকাশ বা সমগ্র মহাবিশ্বকে নির্মাণ করা হয়েছে, তাকে সুষম করা হয়েছে এবং আলো ও অন্ধকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে পৃথিবীকে বিস্তৃত ও উপযোগী করে তোলার কথা। পৃথিবী থেকে পানি বের হওয়া, উদ্ভিদ ও চারণভূমির সৃষ্টি এবং পাহাড়কে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সবশেষে বলা হয়েছে, এসব কিছু করা হয়েছে মানুষ ও পশুপাখির উপকারের জন্য।


এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো—কুরআনে কোথাও বলা হয়নি যে মানুষই প্রথম সৃষ্টি, কিংবা পৃথিবী আগে আর মহাবিশ্ব পরে। বরং স্পষ্টভাবে একটি ধারাবাহিক ক্রম তুলে ধরা হয়েছে: আগে মহাবিশ্ব, পরে পৃথিবী, তারপর পানি ও উদ্ভিদ, এবং সবশেষে মানুষ। আধুনিক বিজ্ঞান আজ যে সত্যগুলো পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরছে, কুরআন সেগুলোকে বহু আগেই ইঙ্গিতের ভাষায় উপস্থাপন করেছে।


আর সৃষ্টির সময়ের ব্যাপারে কুরআন আরো স্পষ্ট করে বলেছে সূরা ফুসসিলাতে।


কুরআন কোনো বিজ্ঞানগ্রন্থ নয়, কিন্তু এটি কখনো প্রকৃতির বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক কোনো সৃষ্টি-ক্রম দেয়নি। বরং চিন্তাশীল মানুষের জন্য মহাবিশ্ব ও সৃষ্টিজগতকে উপলব্ধি করার এক গভীর দিকনির্দেশনা দিয়েছে।


সুত্র The Bilble Quran and Science , Professor Muris Bukail  এর বইয়ে এই বিষয়ে আরো সুন্দর করে বলা আছে তার সাথে বাইবেলে সৃষ্টি সম্পর্কে যে ভুল ধারণা আছে এটাও তিনি উল্লেখ করেছেন। 


Comments

Popular posts from this blog

মহাকাশে এক বিশাল সমুদ্র

আমি কেন আল্লাহকে মানি ?

মেরাজের যাত্রা টেলিস্কোপ এবং ধারণার বাইরে