Quran and Time Dilation

 


আধুনিক বিজ্ঞানের যে তথ্য গুলো আমার মাথা ঘুরিয়ে দেয় তার মধ্যে একটা হল টাইম ডাইলেশন।


Time Dilation এটা থিওরি অফ রিলেটিভিটির একটা অংশ। আইনিস্টাইনের মতে,কম গতিশীল কোনো বস্তুতে সময় তুলনা মুলোক দ্রুত গতিতে চলে।আর যে বস্তু অধিক গতিতে চলে তার সময় তুলনামূলক কম গতিসম্পন্ন বস্তুর চেয়ে কম দ্রুত চলে। এটাই টাইম ডাইলেশন। এই থিওওরির উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানী কার্ল সেগান 1980 সালে তার বিখ্যার 'কসমস' সিরিজে একটি পর্ব করেছেন যার নাম দেওয়া হয় 'টুইন প্যারাডক্স '।


মূল প্যারাডক্স অনুসারে, ধরা যাক আমার আর আমার জমজ ভায়ের বয়স এখন 18 বছর। একখ আমি চাইলাম আমি আমি 3 বছরে 3 আলোকবর্ষ ভ্রমন করে পৃথীবিতে ফিরতে চাই। তাও আবার স্পেসসিপে করে তাহলে আমার স্পেসসিপ এর গতি হতে হবে আলোর গতির সমান অর্থাৎ সেকেন্ডে এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল ।আইনিস্টাইন বলেছেন এতো গতিতে যাওয়া অসম্ভব। কিন্তু যদি by any chance আমি এমন একটা স্পেসসিপ বানায় ফেলেছি।আর যা ছুটবে আলোর বেগে।আমি আমি আমার ঠিক 18 বছর বয়সে ধরা যাক 2020 এ রওনা হলাম স্পেস ঘুরতে আলোর বেগে। আমি ঠিক 3 বছর ঘুরে আসবো তাইলে আমার বয়স হবে 18+3=21। আমি ফিরবো 2022 সালে। থিওরি মতে পৃথীবির গতির তুলানাই আমার গতি বেশি তাই আমার সময় কম দ্রত যাবে আর আমার তুলনায় আমার জমজ ভায়ের অর্থাৎ যে পৃথীবিতে আছে তার গতি কম তাই তার সময় খুব দ্রত যাবে এতে তার বয়স বাড়বে দ্রুত আর আমার only 3বছর আমি 2022 এ এসে দেখবো তার বয়স হবে ৭১ বছর মানে সে বেচে নাও থাকতে পারে । আমি যদিও আমার দিক থেকে মনে হবে শুধু মাত্র 3 বছর সময় গেছে আসোলে তখন হবে 2108 year কারোন ইতিমধ্যেই ৫০ বছর পাড় হয়ে গেছে।কিন্তু আমি তখন 21 বছরের যুবক।আসলে এটাই time dilation. যাকে আমরা time travel বলে ভাবি। আসল কথা হলো এটাই ভবিষ্যতে ভ্রমন


চলুন এবার তাহলে একটু আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলাম নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। প্রথমেই বলে রাখি পবিত্র কুরআন এমন একটা গ্রন্থ যার মধ্যে সংক্ষিপ্ত বাক্যে অনেক কিছু বলা হয়। আর এটা কোন বিজ্ঞান গ্রন্থ নয়। এটা ধর্ম গ্রন্থ, কিন্তু পবিত্র কুরআনে বিজ্ঞানের অনেক কিছুর সমাধান পাওয়া যায়, যা বিজ্ঞান স্বীকার করে নিয়েছে এবং কুরআনের কোন আয়াত আজও কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারেনি। আর আমরা বিশ্বাস করি, এই মহাবিশ্ব যিনি সৃষ্টি করেছেন তার কাছেই রয়েছে সব কিছুর সঠিক সমাধান।


টাইম ডিলেশন এখনও বিজ্ঞান জগতে থিওরি হিসেবেই রয়েছে। উপরে টাইম ডিলেশনের যে ব্যাপারটা দেখানো হয়েছে, সেটা টাইম ডিলেশনের একটা ব্যাখ্যা। অর্থাৎ ৩ আলোক বর্ষ=পৃথিবীর ৫০ বছর। এবার দেখা যাক পবিত্র কুরআনে এই সম্পর্কে কিছু রয়েছে কিনা।

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মা’আরিজ এর ৪ নং আয়াতে বলেন:

ফেরেশতা এবং রূহ আল্লাহর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমান (তোমাদের হিসাব মতে) পঞ্চাশ হাজার বছর।


অর্থাৎ ফিরিশতারা মহান রবের দরবারে এমন একটি দিনে উপস্থিত হয় বা হবে যেদিনের এক দিন সমান দুনিয়ার ৫০ হাজার বছরের সমান। জ্বি। ঠিক শুনেছেন। যে থিওরি পুরো পৃথিবীর বিজ্ঞান কে পরিবর্তন করে দিয়েছে। সেই থিওরি কিন্তু ১৪০০ বছর পূর্বেই মহান আল্লাহ তায়ালা তার হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে দিয়েছেন।


ফিরিশতারা নূরের বা আলোর তৈরী, তাদের জগৎও আলোর। সুতরাং বিজ্ঞানীদের টাইম ডিলেশনের সাথে পুরোপুরিই মিলে যাচ্ছে। টাইম ডিলেশনের আরো চমকপ্রদ কিছু নিয়ম রয়েছে। গতিশীল বস্তুর গতির আধিক্যতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে সময়েরও পূর্বে কাজ হয়ে যায়। সহজভাবে বললে, মনে করুন একজন মানুষের চেয়ে মেশিন কাজ করার দিক দিয়ে বেশী গতিশীল। মানুষ যে কাজ ১০ ঘন্টায় করে মেশিন সেটা এক ঘন্টায় করে। অর্থাৎ গতিশীলতার কাছে কাজের সময় কমে যায়।


এমন যদি হয় একটি বস্তুর গতি এতটাই বেশী যে, দুনিয়ার মুহুর্ত যাওয়ার পূর্বেই সে বহু বছরের কাজ করে ফেলে। লক্ষ বছরের রাস্তা ঘুরে আসে। হ্যা ! বিজ্ঞানের পরিভাষায় এটাও অসম্ভব নয়। সম্ভব। কিন্তু এটা করতে হলে আলোর চেয়েও কোটি কোটি গুন বেশী গতিসম্পন্ন যানের প্রয়োজন, যেটা বিজ্ঞান মহলে কোনদিনও সম্ভব নয়।


কিন্তু এই কাজটিই করেছেন আমাদের প্রিয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি সকল সৃষ্টি জগত ঘুরে এসেছেন মূহুর্তের মধ্যেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, তিনি যাত্রা করার পূর্বে যেখানে অজু করেছেন, ফিরে এসে দেখেন যে, সেখানের পানি এখনও গড়িয়ে পড়তেছে।

Comments

Popular posts from this blog

মহাকাশে এক বিশাল সমুদ্র

আমি কেন আল্লাহকে মানি ?

মেরাজের যাত্রা টেলিস্কোপ এবং ধারণার বাইরে