পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড নিয়ে ভাবুন


 

এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তাকে চেনার জন্য আপনাকে মহাবিশ্ব, গ্যালাক্সি নিয়ে ভাবা লাগবেনা এমনকি সৌরজগতও না আপনি আপনার বাসস্থান পৃথিবী নিয়ে ভাবেন, হতবাক হয়ে যাবেন।


। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এই পৃথিবীতে সৃষ্টি করে তার অসংখ্য নিদর্শন দিয়ে ঘিরে রেখেছেন, যাতে আমরা চিন্তা করি এবং তার মহত্ত্ব উপলব্ধি করি। 


কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে:


“আর আমি আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদস্বরূপ, অথচ তারা তার নিদর্শনসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (সূরা আম্বিয়া: ৩২)

এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা আকাশকে سقفا محفوظًا” (সুরক্ষিত ছাদ) বলে অভিহিত করেছেন। এটি পৃথিবীর জন্য এক অদৃশ্য ঢালস্বরূপ, যা সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর সৌর বায়ু (solar wind) এবং মহাকাশের বিপজ্জনক কণা থেকে আমাদের রক্ষা করে।


কেন সুরক্ষিত ছাদ আসুন দেখি 


পৃথিবীর অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা চৌম্বক ক্ষেত্র (Earth's magnetic field) একটি অদৃশ্য শক্তি যা আমাদের গ্রহকে বিভিন্ন বহিরাগত হুমকি থেকে রক্ষা করে। এটি পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অংশ, বিশেষ করে বাইরের তরল কোর (outer core) থেকে উৎপন্ন হয়, যেখানে গলিত লোহা এবং নিকেলের গতিশীলতা (convection currents) এই ক্ষেত্র তৈরি করে। এখন দেখা যাক, এটি কীভাবে পৃথিবীকে সুরক্ষিত করে। আমি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করছি:


 ১. চৌম্বক ক্ষেত্রের গঠন এবং প্রকৃতি

   - পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রটি একটি ডাইপোল (dipole) ম্যাগনেটের মতো, যার উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু রয়েছে। এটি পৃথিবীর চারপাশে একটি অদৃশ্য "ঢাল" বা ম্যাগনেটোস্ফিয়ার (magnetosphere) গঠন করে, যা মহাকাশে কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

   - এই ক্ষেত্রটি "লুকিয়ে থাকা" বলা হয় কারণ এটি অভ্যন্তরীণ, এবং আমরা এটি সরাসরি দেখতে পাই না—শুধু কম্পাসের মতো যন্ত্র দিয়ে অনুভব করি।


২. সুরক্ষার প্রধান উপায়: সৌর বায়ু থেকে রক্ষা


   - সূর্য থেকে নির্গত সৌর বায়ু (solar wind) হলো উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন চার্জযুক্ত কণা (প্রোটন, ইলেকট্রন এবং অন্যান্য আয়ন) যা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে (প্রতি সেকেন্ডে ৩০০-৮০০ কিলোমিটার) পৃথিবীর দিকে আসে। এগুলো যদি সরাসরি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত করে, তাহলে বায়ুমণ্ডলের অণু-পরমাণুকে ক্ষয় করে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বায়ুমণ্ডলকে পাতলা করে ফেলবে (যেমন মঙ্গল গ্রহে ঘটেছে, যার চৌম্বক ক্ষেত্র দুর্বল)।

   - চৌম্বক ক্ষেত্র এই চার্জযুক্ত কণাগুলোকে লরেন্টজ ফোর্স (Lorentz force) দিয়ে বিচ্যুত (deflect) করে। ফলে এগুলো ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের চারপাশে ঘুরে যায় বা ধরা পড়ে, এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছায় না। এটি বায়ুমণ্ডলকে স্থিতিশীল রাখে এবং জলবায়ুকে প্রভাবিত করে না।


 ৩. কসমিক রশ্মি এবং রেডিয়েশন থেকে সুরক্ষা*

   - মহাকাশ থেকে আসা কসমিক রশ্মি (cosmic rays) হলো উচ্চ-শক্তির কণা যা ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্যান্সারের মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে। চৌম্বক ক্ষেত্র এগুলোর অনেকটাই ব্লক করে বা দুর্বল করে, যাতে পৃথিবীর জীবনের জন্য নিরাপদ থাকে।

   - এছাড়া, সৌর ফ্লেয়ার (solar flares) বা করোনাল ম্যাস ইজেকশন (CME) এর মতো সৌর ঘটনাগুলো থেকে উদ্ভূত রেডিয়েশনও এই ক্ষেত্র দিয়ে রক্ষা পায় পৃথিবী। যদি এই ক্ষেত্র না থাকত, তাহলে এই রেডিয়েশন স্যাটেলাইট, বিদ্যুৎ গ্রিড এবং এমনকি মানুষের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করত।


 ৪. অন্যান্য সুবিধা এবং উদাহরণ

   - অরোরা (Aurora Borealis/Australis): যখন কিছু চার্জযুক্ত কণা মেরু অঞ্চলে প্রবেশ করে, তখন তারা বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সাথে সংঘর্ষ করে আলোকিত হয়, যা অরোরা নামে পরিচিত। এটি সুরক্ষার একটি দৃশ্যমান প্রমাণ।

   - জীবনের উন্নয়ন: এই চৌম্বক ক্ষেত্র ছাড়া পৃথিবীতে জীবনের বিবর্তন কঠিন হতো, কারণ রেডিয়েশন জেনেটিক মিউটেশন বাড়াত।

   - যাত্রা এবং নেভিগেশন: কম্পাসের মাধ্যমে এটি নেভিগেশন সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে সুরক্ষা প্রদান করে (যেমন পাখি বা প্রাণীদের মাইগ্রেশন)।


এই চৌম্বকীয় ক্ষেত্র পৃথিবীকে একটি "জীবনযোগ্য" গ্রহ করে তুলেছে। যদি এটা না থাকতো তাহলে বায়ু মন্ডল থাকতো না পৃথিবী থেকে জীবন নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।


সেই নাস্তিকদের বলুন এই চৌম্বকীয় ক্ষেত্র শুধু আমাদের পৃথিবীতে কেন অন্য গ্রহে নেই কেনো? কেন এখানেই শুধু এমনি এমনি হয়ে গেল ? 


কল্পনা করুন এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড না থাকার কারণে সৌর জগতে পৃথিবী ছাড়া কোথাও জীবন নেই। না চাঁদে না শনিতে আর না মঙ্গলে।


আজ যে আমরা নিরাপত্তায় আছি আল্লাহর অনুগ্রহে যিনি এই অদৃশ্য শক্তিকে আমাদের জন্য প্রহরী স্বরুপ নিয়োগ করে রেখেছেন যাতে আমরা সমূলে ধ্বংস না হয়ে যায়।


বই , সিতারো কে উস পার, পৃষ্ঠা ৩৮,৩৯,৪০ 


فبائ الاء ربکما تکذبان সুতরাং তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতের অস্বিকার করবে? 


لا بشیئ من نعمک ربنا نکذب


اللہم صل و سلم علی نبینا محمد ﷺ

Comments

Popular posts from this blog

মহাকাশে এক বিশাল সমুদ্র

আমি কেন আল্লাহকে মানি ?

মেরাজের যাত্রা টেলিস্কোপ এবং ধারণার বাইরে