বিজ্ঞানের ‘ বস’ সিজদায় লুটিয়ে পড়ল: ইলন মাস্কের ঈশ্বরস্বীকার এবং আধুনিক নাস্তিকতার কফিনে শেষ পেরেক!
একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো—প্রযুক্তির ঝলকানিতে মানুষ নিজেরই “দূরদৃষ্টি” হারিয়ে ফেলেছে।
আমাদের বলা হয়েছিল, বিজ্ঞান ঈশ্বরকে কবর দিয়েছে (“God is dead”), আর এখন রকেট বানানো মানুষ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সৃষ্টি করা ব্যক্তি, আর মঙ্গলে বসতি গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টারাই আমাদের নতুন “ঈশ্বর”।
কিন্তু বন্ধুরা!
প্রকৃতির প্রতিশোধ দেখুন
আজ সেই প্রযুক্তিরই সবচেয়ে বড় গুরু একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রখর মস্তিষ্ক, বস্তুগত উন্নতির প্রতীক—ইলন মাস্ক (Elon Musk)—ঠিক সেই দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে, যাকে বলা হয় “ধর্ম”।
এই খবর যে ইলন মাস্ক ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন—এটা সোশ্যাল মিডিয়ার সাধারণ কোনো শিরোনাম নয়;
এটা আধুনিক নাস্তিকতা (New Atheism)-এর মুখে এমন এক জ্ঞানগত চপেটাঘাত, যার প্রতিধ্বনি নিশ্চয়ই রিচার্ড ডকিন্স ও স্যাম হ্যারিসের অন্দরমহল পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এই খবরের গুরুত্ব বুঝতে হলে আগে ইলন মাস্কের মানসিক পটভূমি বোঝা দরকার।
তিনি কোনো প্রথাগত ধর্মীয় মানুষ ছিলেন না। দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ইলন ছোটবেলা থেকেই পদার্থবিদ্যা ও যুক্তির প্রতি আসক্ত ছিলেন।
তিনি সেই “পশ্চিমা সেক্যুলারিজম”-এরই ফসল, যা বলে—“ল্যাবরেটরিতে প্রমাণ না হলে তার অস্তিত্ব নেই।”
বহু বছর ধরে ইলন মাস্ক নিজেকে “অ্যাগনস্টিক” (অনিশ্চয়তাবাদী) বা “অ্যাথিয়িস্ট” (নাস্তিক)-এর কাতারে রেখেছেন। তিনি বারবার বলেছেন—
“আমি কখনো প্রার্থনা করিনি, আমি কেবল পদার্থবিদ্যায় বিশ্বাস করি।”
এটাই সেই মানুষ, যে মহাবিশ্বকে নিছক পরমাণুর এক আকস্মিক নৃত্য বলে মনে করত। কিন্তু তারপর কী হলো?
মহাবিশ্বের জটিলতা (Complexity) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সূক্ষ্মতা যত গভীরভাবে তিনি বুঝতে লাগলেন, ততই তার “বৈজ্ঞানিক অহংকার” ভাঙতে থাকল।
“ঈশ্বরই স্রষ্টা”: এক মহান স্বীকারোক্তি
সম্প্রতি কেটি মিলার (Katy Miller)-এর সঙ্গে এক পডকাস্ট আলাপে ইলন মাস্ক সেই বাক্যটি উচ্চারণ করেন, যা বিজ্ঞানের “প্রথম কারণ” (First Cause) দর্শনের ভিত্তি।
তিনি বলেন
“আমি বিশ্বাস করি, এই মহাবিশ্ব কোনো কিছুর মাধ্যমে অস্তিত্বে এসেছে। ঈশ্বরই স্রষ্টা।”
(I believe that this universe came into existence from something. God is the Creator.)
ভেবে দেখুন!
এই বাক্যটি অ্যারিস্টটলের “প্রাইম মুভার” এবং ইসলামের “ওয়াজিবুল-উজুদ”-এর ধারণার আধুনিক সমর্থন।
আধুনিক পদার্থবিদ্যায় “বিগ ব্যাং” বলে দেয় যে মহাবিশ্বের “শুরু” আছে, কিন্তু বলে না—
“শুরুটা কে করল?”
যুক্তির রাজা ইলন মাস্ক বুঝে ফেলেছেন—“Nothing comes from nothing” (শূন্য থেকে কিছু আসে না)। যদি মহাবিশ্ব থাকে, তবে তার পেছনে একটি “সুপার ইন্টেলিজেন্স”-এর অস্তিত্ব অপরিহার্য।
এই স্বীকারোক্তি কোনো আবেগের ফল নয়; বরং খাঁটি যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত (Logical Deduction)-এর ফল।
-এই মানসিক পরিবর্তনের আরেক দিক হলো ইলন মাস্কের সামাজিক পর্যবেক্ষণ।
২৫ আগস্ট তিনি “X” (সাবেক টুইটার)-এ এক আলোড়ন তোলা কথা লেখেন—
“ওয়োক (Woke) একটি ধর্ম, যা খ্রিস্টধর্ম ছেড়ে যাওয়া শূন্যতা পূরণ করছে।”
এখানে ইলন এক গভীর সমাজতাত্ত্বিক সত্যের দিকে ইঙ্গিত করছেন।
মানুষের প্রকৃতিতেই “উপাসনা” আছে।
আপনি যদি তার কাছ থেকে “ঈশ্বর” কেড়ে নেন, সে অন্য কিছুকে ঈশ্বর বানিয়ে নেবে।
পশ্চিম যখন খ্রিস্টধর্ম ছেড়ে দিল, তখন তারা “লিবারালিজম”, “LGBTQ এজেন্ডা” আর “ওকিজম”-কেই ধর্ম বানাল।
গত বছর ইলন মাস্ক নিজেকে “কালচারাল ক্রিশ্চিয়ান” (Cultural Christian) বলেছিলেন
(জর্ডান পিটারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকার, জুলাই ২০২৪)।
এর মানে—তিনি বুঝেছেন, ধর্ম ছাড়া সমাজ পশুদের ভিড় হয়ে যায়।
তিনি দেখছেন—নাস্তিকতা মানুষকে মুক্ত করেনি; বরং তাকে “বাসনার দাস” আর “মানসিক রোগী” বানিয়েছে।
সহজ-সরল বন্ধুরা!
নামের ফাঁদে পড়ো না।
যাকে ইলন মাস্ক “সিমুলেশন” বলেন, আধ্যাত্মিক ভাষায় সেটাই “মায়া” বা “মরীচিকা”।
যাকে তিনি “প্রোগ্রামার” বলেন, আমরা তাকে বলি “স্রষ্টা”।
যাকে তিনি “কোডিং” বলেন, আমরা তাকে বলি “লওহে মাহফুজ”।
ইলন মাস্ক যখন বলেন—
“মানবজীবন একটি ভিডিও গেমের মতো”—
তখন আসলে তিনি কুরআনের এই আয়াতেরই আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিচ্ছেন—
“আর দুনিয়ার জীবন তো খেলাধুলা ও তামাশা ছাড়া কিছুই নয়।”
(সূরা আল-আন‘আম: ৩২)
বুদ্ধির শেষ সীমানা—ঈশ্বর
ইলন মাস্কের এই ইউ-টার্ন আমাদের একটাই শিক্ষা দেয়, আপনি বিজ্ঞানে যত গভীরে যাবেন, ঈশ্বরের তত কাছাকাছি পৌঁছাবেন।
নাস্তিকতা জন্ম নেয় কেবল “অপর্যাপ্ত বিজ্ঞান” (Bad Science) থেকে।
মানুষ যখন ডিএনএ (DNA)-এর জটিলতা আর মহাবিশ্বের সূক্ষ্ম সামঞ্জস্য (Fine-tuning) দেখে, তখন তার সামনে মাত্র দুই পথ থাকে—
হয় সে নিজের বুদ্ধিকে অস্বীকার করবে,
নয়তো “স্রষ্টা”-কে স্বীকার করবে।
ইলন মাস্ক নিজের বুদ্ধিকে অস্বীকার করেননি, তাই তাকে স্রষ্টাকে স্বীকার করতেই হয়েছে।
এই মহাবিশ্ব কোনো অন্ধ দুর্ঘটনা নয়। আর ইলন মাস্কের মতো একজন মানুষ আজ বুঝে গেছে—যদি “রকেট” বানানোর লোক থাকে, তবে “রকেট বানানো মানুষ”-কে বানানোর কেউ নেই—এটা মানা যায় না।
اردو سے ترجمہ رکؤل شیخ
اردو تحریر - بلال شوکت ازاد

Comments
Post a Comment