বিজ্ঞানের অন্ধবিশ্বাস
" বিজ্ঞানের অন্ধবিশ্বাস "
নাস্তিকদের কথা হল বিজ্ঞান Electron (ইলেকট্রন) বা Gravity (মহাকর্ষ)-এর মতো অদৃশ্য বিষয়গুলোকে এই কারণে গ্রহণ করে যে সেগুলোর প্রভাব ল্যাবরেটরিতে মাপা যায়। অর্থাৎ সেগুলো Measurable (পরিমাপযোগ্য) এবং সর্বোপরি Falsifiable (ভুল প্রমাণযোগ্য)।
মানে, আগামীকাল যদি নতুন কোনো ডাটা আসে, তাহলে বিজ্ঞান তার পুরোনো তত্ত্ব বাতিল করে দেবে। কিন্তু ধর্মীয় গায়েব (ঈশ্বর) এই প্রকৃতির নয়, কারণ তিনি না Test Tube (পরীক্ষানল)-এ আসেন, না তাঁকে ভুল প্রমাণ করার কোনো কার্যকর Methodology (পদ্ধতিগত কাঠামো) আছে। সুতরাং, এই দুই বিষয়কে একই “গায়েব” বলা নিছক শব্দের খেলা।
দেখতে এই যুক্তি এতটাই শক্ত, এতটাই বৈজ্ঞানিক ও ভারী যে সাধারণ বুদ্ধি সহজেই এর সামনে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু যদি আমরা Philosophy of Science (বিজ্ঞানের দর্শন)-এর একটু গভীরে যাই এবং Science (বিজ্ঞান) ও Scientism (বিজ্ঞানকেই একমাত্র সত্য মানার মতবাদ)-এর পার্থক্য বুঝতে চেষ্টা করি, তাহলে আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়—এই আপত্তি আসলে একটি বড় Category Error (ধারণাগত শ্রেণিবিভাগের ভুল)-এর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে আবেগী বক্তব্য নয়, বরং কঠোর Epistemology (জ্ঞানতত্ত্ব) দরকার।
প্রথমেই আমাদের এই দাবিটি বিশ্লেষণ করতে হবে—
“বিজ্ঞান কেবল সেই গায়েবকেই মানে, যা Falsifiable এবং ল্যাবরেটরিতে টেস্টযোগ্য।”
এই দাবি বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত দার্শনিক Karl Popper-এর দর্শন পর্যন্ত কিছুটা সঠিক ছিল। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক Cosmology (বিশ্বতত্ত্ব) এবং Theoretical Physics (তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান)-এ এই দাবি এখন নিজেই বিজ্ঞানীদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হচ্ছে।
আজকের আধুনিক বিজ্ঞান বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে Multiverse (বহু-কাইনাত তত্ত্ব) এবং String Theory (স্ট্রিং তত্ত্ব) নিয়ে গবেষণা করছে।
বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ও নোবেলজয়ী Stephen Hawking এবং Leonard Susskind ছিলেন এর প্রধান সমর্থকদের মধ্যে।
[Source: Stephen Hawking & Leonard Mlodinow, The Grand Design, 2010]
এখন প্রশ্ন হলো—
আমরা কি অন্য কাইনাতগুলো পরীক্ষা করতে পারি?
আমরা কি আমাদের কাইনাতের সীমা অতিক্রম করে সেখানে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে পারি?
কোনো Microscope (অণুবীক্ষণ যন্ত্র) দিয়ে কি “Strings” দেখা সম্ভব?
উত্তর হলো—
একেবারেই না।
এটি নীতিগতভাবেও এবং প্রযুক্তিগতভাবেও অসম্ভব, কারণ আমরা আমাদের কাইনাতের Horizon (দৃশ্যমান সীমা)-এর বাইরে তাকাতে পারি না।
তাহলে বিজ্ঞানীরা কেন Multiverse-কে বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করেন?
শুধু এই কারণে যে তাদের Mathematical Models (গাণিতিক মডেল) সেদিকেই ইঙ্গিত করছে এবং এটি তাদের ডাটার Inference to the Best Explanation (সর্বোত্তম ব্যাখ্যার প্রতি যুক্তি)।
যদি বিজ্ঞান একটি Unobservable (অদৃশ্য), Untestable (অপরীক্ষাযোগ্য) এবং Unfalsifiable (অখণ্ডনযোগ্য) Multiverse-কে মেনে নিতে পারে শুধুমাত্র Mathematics (গণিত) ও Logic (যুক্তি)-এর ভিত্তিতে, তাহলে সেই একই গণিত, সেই একই যুক্তি এবং সেই একই কাইনাতের Fine Tuning (সূক্ষ্ম সামঞ্জস্য) দেখে একজন The Creator (স্রষ্টা)-কে মানা কীভাবে “অবৈজ্ঞানিক” হয়ে যায়?
খ্যাতনামা গণিতবিদ George Ellis এই বিষয়ের সমালোচনা করে বলেন—যদি Multiverse-কে বিজ্ঞান বলা হয়, তাহলে “Science”-এর সংজ্ঞাই বদলাতে হবে, কারণ এটি ঐতিহ্যগত অর্থে পরীক্ষাযোগ্য নয়।
[Source: George Ellis, Nature, 2014]
অতএব, এই দাবি করা যে বিজ্ঞান কেবল ল্যাবরেটরিতে প্রমাণিত বিষয়ই মানে—এটি বিজ্ঞান ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞতার প্রমাণ।
এবার আমরা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের দুটি প্রতিষ্ঠিত ধারণার দিকে তাকাই—
Dark Matter (অদৃশ্য পদার্থ) এবং Dark Energy (অদৃশ্য শক্তি), যা মিলিয়ে কাইনাতের প্রায় ৯৫ শতাংশ।
আজ পর্যন্ত কি কোনো বিজ্ঞানী Dark Matter-এর একটি Particle (কণা) দেখেছেন?
এটি কি ল্যাবরেটরিতে ধরা পড়েছে?
উত্তর—
না।
তবুও বিজ্ঞান এটিকে গ্রহণ করে, কারণ Galaxy Rotation Curves (গ্যালাক্সির ঘূর্ণনগত বক্ররেখা) এই অদৃশ্য পদার্থ ছাড়া ব্যাখ্যা করা যায় না।
[Source: Vera Rubin & W. Kent Ford Jr., Astrophysical Journal, 1970]
অর্থাৎ, বিজ্ঞান কেবল Effect (প্রভাব) দেখে একটি Unseen Cause (অদৃশ্য কারণ) মেনে নিচ্ছে।
ধর্মীয় গায়েব (ঈশ্বর)-এর যুক্তিও যুক্তিগতভাবে ঠিক একই রকম। আমরা কাইনাতের বিস্ময়কর Fine Tuning, যেমন Gravity-এর মানের অতি সূক্ষ্ম সামঞ্জস্য, এর Effect দেখি এবং সেখান থেকে একজন Intelligent Designer (বুদ্ধিমান পরিকল্পনাকারী)-এর অস্তিত্বের যুক্তি দাঁড় করাই।
এটি কোনো শব্দের খেলা নয়; এটি সেই একই Abductive Reasoning (সর্বোত্তম ব্যাখ্যার যুক্তি), যা বিজ্ঞান Dark Matter ও Dark Energy-এর অস্তিত্ব ব্যাখ্যায় ব্যবহার করে।
[Source: Stephen Meyer, Return of the God Hypothesis, 2021]
যদি Dark Matter-এর যুক্তি বিজ্ঞান হয়, তাহলে স্রষ্টার যুক্তি কুসংস্কার কীভাবে হয়?
এখন আসা যাক দ্বিতীয় আপত্তিতে—
“বুদ্ধি ও চেতনার Neural (স্নায়বিক) প্রমাণ আছে, ঈশ্বরের নেই।”
এখানে আপত্তিকারী যে গুরুতর ভুলটি করেছেন, দর্শনে তাকে বলা হয় Reductionism (সবকিছুকে বস্তুতে নামিয়ে আনা)। আধুনিক নিউরোসায়েন্সে একে বলা হয় The Hard Problem of Consciousness (চেতনার কঠিন সমস্যা)—এই পরিভাষাটি প্রবর্তন করেন David Chalmers।
[Source: David Chalmers, The Conscious Mind, 1996]
Science fMRI স্ক্যানে কী দেখে?
Science কেবল দেখে—আপনি যখন ভালোবাসা অনুভব করেন বা কোনো যুক্তি চিন্তা করেন, তখন আপনার মস্তিষ্কের কিছু অংশে (যেমন Prefrontal Cortex) রক্তপ্রবাহ বাড়ে এবং কিছু Neurons (স্নায়ুকোষ) সক্রিয় হয়।
আপত্তিকারীরা বলেন—
“এই তো! এই হলো বুদ্ধির প্রমাণ।”
কিন্তু David Chalmers এবং Thomas Nagel-এর মতো চিন্তাবিদরা বলেন—
না।
আপনি কেবল Machinery (যান্ত্রিক স্নায়বিক কাঠামো / Neural Correlates) দেখেছেন, কিন্তু Experience (Qualia – ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অনুভূত রূপ) দেখেননি।
মস্তিষ্কে Sodium ও Potassium আয়নের চলাচল একটি Biological Mechanism (জৈব প্রক্রিয়া)। কিন্তু এই কেমিক্যাল প্রক্রিয়া থেকে “আমি”বোধ কীভাবে জন্ম নেয়?
লাল রঙ দেখার অনুভূতি বা ব্যথার অভিজ্ঞতা বস্তু থেকে কীভাবে উদ্ভূত হয়?
Science আজও বলতে পারে না—১.৫ কেজি ওজনের একটি Brain (মস্তিষ্ক) কীভাবে “Think (চিন্তা)” করে।
যদি আপনি বুদ্ধিকে কেবল মস্তিষ্কের কেমিক্যাল প্রতিক্রিয়া বলে মানেন, তাহলে একজন নাস্তিকের এই চিন্তা—
“God does not exist”—
এটিও আর কোনো যুক্তিগত সত্য থাকে না; বরং এটি হজমের মতোই একটি কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন হয়ে যায়, যার ওপর বিশ্বাস করা যায় না।
J.B.S. Haldane যথার্থই বলেছিলেন—
“যদি আমার চিন্তাগুলো কেবল পরমাণুর গতিবিধির ফল হয়, তবে আমার মস্তিষ্ক সত্য বলছে—এ বিষয়ে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।”
[Source: J.B.S. Haldane, Possible Worlds, 1927]
আপনি Neuron টেস্ট করতে পারেন, কিন্তু Consciousness (চেতনা)-কে ল্যাবরেটরিতে ওজন করতে পারেন না। চেতনাকে কেবল অনুভব করা যায়, কারণ আপনি নিজেই চেতনা।
ঠিক একইভাবে—এবং এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ঈশ্বর কাইনাতের কোনো Object (বস্তু) নন, যাকে Telescope (দূরবীন) বা Microscope দিয়ে দেখা যাবে। তিনি কাইনাতের Subject (কর্তা)—অর্থাৎ কার্যকারণ পরিচালনাকারী সত্তা।
যেমন চোখ সবকিছু দেখে, কিন্তু নিজেকে দেখতে পারে না (প্রতিবিম্ব ছাড়া), তেমনি Science কাইনাতের ভেতরের সবকিছু পরীক্ষা করতে পারে, কিন্তু কাইনাতের স্রষ্টাকে নয়। কারণ তিনি Test Tube-এর ভেতরে নন, বরং Test Tube-ই তাঁর সৃষ্টি।
অক্সফোর্ডের গণিতবিদ Professor John Lennox একটি অসাধারণ উদাহরণ দেন—
ধরুন, আপনার কাছে Shakespeare-এর নাটক “Hamlet” আছে। আপনি এই বইটি বিশ্বের সেরা ল্যাবরেটরিতে নিয়ে গেলেন। বিজ্ঞানীরা—
কাগজের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলেন
কালির Molecules পরীক্ষা করলেন
শব্দের Statistical Pattern বের করলেন
এই সব বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে কি তারা বইয়ের ভেতরে কোথাও Shakespeare-কে খুঁজে পাবে?
কখনোই না।
কাগজ ও কালির ভেতরে Shakespeare-এর কোনো Particle নেই।
তাহলে কি বিজ্ঞানীরা বলবে—
“যেহেতু Shakespeare ল্যাবরেটরিতে পাওয়া যায়নি, তাই Hamlet নিজে নিজেই Randomly (এলোমেলোভাবে) ছাপা হয়েছে”?
এটি সম্পূর্ণ হাস্যকর।
Shakespeare বইয়ের ভেতরে নেই; তিনি বইয়ের বাইরে Transcendent (অতীত/উর্ধ্বতন সত্তা)। কিন্তু বইয়ের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য ও প্রতিটি কাহিনি চিৎকার করে বলে—এর পেছনে একটি Mind (সচেতন মন) আছে।
[Source: John Lennox, God’s Undertaker: Has Science Buried God?, 2009]
ঠিক একইভাবে, কাইনাতের Atom বা Gravity Waves-এর ভেতরে ঈশ্বরকে খোঁজা একটি Category Error।
Science হলো বই (কাইনাত)-এর অধ্যয়ন,
Religion হলো লেখক (ঈশ্বর)-এর পরিচয়।
দুটো এক নয়—
একটি Mechanism (প্রক্রিয়া),
অন্যটি Agency (সচেতন কর্তৃত্ব)।
সবশেষে, যদি আমরা Science-এর ভিত্তি—Mathematics (গণিত) এবং Logic (যুক্তি)—এর দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই Science নিজেই এমন এক গায়েবের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যাকে সে প্রমাণ করতে পারে না।
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গণিতবিদ Kurt Gödel তাঁর বিখ্যাত Incompleteness Theorem (অসম্পূর্ণতা উপপাদ্য) উপস্থাপন করেন।
Gödel প্রমাণ করেন—
“যেকোনো Logical System-এর ভেতরে এমন কিছু সত্য থাকে, যা সত্য হলেও সেই সিস্টেমের নিয়ম ব্যবহার করে প্রমাণ করা যায় না।”
[Source: Kurt Gödel, 1931]
সহজ ভাষায়—
👉 একটি সিস্টেম নিজের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা নিজে দিতে পারে না।
Science Laws of Physics অধ্যয়ন করে,
কিন্তু বলতে পারে না—
এই আইনগুলো কোথা থেকে এলো
কেন এগুলো এত গাণিতিকভাবে সুন্দর
নোবেলজয়ী Eugene Wigner একে বলেছিলেন—
“The Unreasonable Effectiveness of Mathematics”
Science বলতে পারে Gravity কীভাবে কাজ করে,
কিন্তু বলতে পারে না Gravity কেন আছে।
এই প্রশ্নগুলো Science-এর Boundary (সীমা)-র বাইরে।
এখানেই আমাদের দরকার পড়ে একটি External Explanation (বাহ্যিক ব্যাখ্যা)—যা কাইনাতের বাইরে।
এই বাহ্যিক ব্যাখ্যাকেই আমরা বলি—ঈশ্বর।
অতএব, যখন বলা হয়—
“ধর্মীয় গায়েব Falsifiable নয়”—
তখন আসলে বলা হয়—
“শুধু বস্তুগতভাবে মাপা যায় এমন জিনিসই সত্য।”
এটাই Scientism, Science নয়।
সত্যের নানা ধরন আছে—
Mathematical Truth: 2+2=4
Historical Truth: একজন ব্যক্তি ইতিহাসে রাজা ছিলেন
Moral Truth: অন্যায় খারাপ
সব সত্য Test Tube-এ ধরা পড়ে না।
ঈশ্বরকে অস্বীকার করা কেবল এজন্য যে তিনি Test Tube-এ আসেন না—
এটা ঠিক তেমনই, যেমন কেউ Love (ভালোবাসা) অস্বীকার করে বসে, কারণ সেটি X-ray Machine-এ দেখা যায়নি।
এটি যুক্তির ব্যর্থতা নয়,
এটি ভুল Instrument (পরিমাপক যন্ত্র) বেছে নেওয়ার ফল।
اردو تحریر - بلال شوکت ازاد
ترجمہ - رکؤل شیخ

Comments
Post a Comment