বিগ ব্যাং এর নামে মিথ্যাচার

 আজকের বিজ্ঞান বলে—মহাবিশ্বের সূচনা এক মহাবিস্ফোরণ থেকে, আর সেই বিস্ফোরণের সঙ্গেই নাকি সময় ও স্থানের জন্ম। তার আগে ছিল না সময়, ছিল না স্থান। কিন্তু এখানেই প্রশ্নটি অনিবার্যভাবে উঠে আসে—

যেখানে সময় নেই, সেখানে কীভাবে “ঘটা” সম্ভব?

আর যেখানে স্থান নেই, সেখানে কীভাবে “বিস্ফোরণ” সংঘটিত হয়?


কারণ কোনো কিছুর সংঘটিত হওয়ার জন্য অন্তত দুটি মৌলিক শর্ত অপরিহার্য—সময় ও স্থান। ঘটনা মানেই সময়ের ধারায় পরিবর্তন, আর পরিবর্তন মানেই কোনো স্থানে অবস্থান। যদি সত্যিই সময় ও স্থান না থাকে, তবে “শুরু” শব্দটিই অর্থহীন হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে Big Bang আর একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকে না—বরং একটি ভাষাগত অসঙ্গতি হয়ে দাঁড়ায়।


এখানে এসে বিজ্ঞান নিজেরই নীতির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। একদিকে বলে—সবকিছু কারণ-নির্ভর; আবার অন্যদিকে বলে—মহাবিশ্ব বিনা কারণেই শুরু হয়েছে। যখন প্রশ্ন করা হয় “কীভাবে?”—তখন উত্তর আসে, এই প্রশ্নটাই অবৈজ্ঞানিক!

অথচ প্রশ্ন নিষিদ্ধ করা কখনোই জ্ঞানের অগ্রগতি নয়; বরং তা সীমাবদ্ধতার স্বীকারোক্তি।


এই সীমাবদ্ধতাকে ঢাকতে সামনে আনা হয় কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি। বলা হয়—কোয়ান্টাম জগতে কারণ-কার্য সম্পর্ক প্রযোজ্য নয়; সেখানে কণারা নাকি নিজে থেকেই আবির্ভূত হয়। কিন্তু এই ব্যাখ্যাও সমস্যামুক্ত নয়। কারণ হাইজেনবার্গের নীতি বলে না যে কিছু একেবারে কিছু থেকে সৃষ্টি হয়—বরং বলে, আমরা একই সঙ্গে কোনো কণার অবস্থান ও ভরবেগ নিখুঁতভাবে মাপতে পারি না। এটি আমাদের জ্ঞানগত সীমা, বাস্তবতার অনুপস্থিতি নয়।


আরও বড় কথা—এই কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তাও ঘটে একটি বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে: কোয়ান্টাম ফিল্ড, শক্তি, নিয়ম ও গাণিতিক সামঞ্জস্যের ভেতরে। সুতরাং একে টেনে এনে “শূন্য থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টি”র প্রমাণ বানানো যুক্তিগতভাবে ভ্রান্ত।


ফলে দেখা যায়—বিজ্ঞান যখন বলে, “সময় ও স্থানের বাইরে থেকেই সবকিছু শুরু,” তখন সে আসলে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিচ্ছে না; বরং নিজের সীমার বাইরে গিয়ে দার্শনিক অনুমান করছে—যেটা সে নিজেই স্বীকার করতে চায় না।


মহাবিশ্বের বিশালতা, নিয়মিততা ও সূক্ষ্ম ভারসাম্য আমাদের বিস্মিত করে—কিন্তু সেই বিস্ময় প্রশ্নকে নিষিদ্ধ করে না; বরং আরও গভীর প্রশ্নের জন্ম দেয়। আর যেখানে বিজ্ঞান নীরব হয়, সেখানেই প্রশ্ন থেকে যায়—

এই নিয়মগুলো এল কোথা থেকে?

কারণহীন শুরু কি সত্যিই যুক্তিসঙ্গত?


ইসলাম এখানে স্পষ্ট—

আল্লাহ্‌ তাআলা حی قیم চিরস্থায়ী, চিরঞ্জীবী। তিনি কোনো কিছুর দ্বারা সীমাবদ্ধ নন। তিনি স্থান সৃষ্টি করেছেন, তাই তিনি স্থানের মুখাপেক্ষী নন। তিনি সময় সৃষ্টি করেছেন, তাই তিনি সময়ের ভেতর আবদ্ধ নন। মহাবিশ্ব তাঁর ক্ষমতার ফল, কোনো দুর্ঘটনার ফল নয়।


وَإِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ [البقرة:117] 


এবং তিনি ( আল্লাহ) যখন কিছু করার মনস্থ করেন তখন শুধু বলেন 'کُن' ' হও' আর তার হয়ে যায় '।

মহাবিশ্বে আনুমানিক দুই ট্রিলিয়েন অধীক গ্যালাক্সি আছে।

সুতরাং আমরা মৃত্যু বরণ করবো আত্মতৃপ্তি নিয়ে যে ' এই মহাবিশ্ব আল্লা


হ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন।

Comments

Popular posts from this blog

মহাকাশে এক বিশাল সমুদ্র

আমি কেন আল্লাহকে মানি ?

মেরাজের যাত্রা টেলিস্কোপ এবং ধারণার বাইরে