ব্ল্যাক হোলের ভিতরে গেলে কী হয়?
রাতের আকাশে তুমি যে তারকা আর গ্রহগুলো দেখতে পাও, তাদের মাঝেও লক্ষ লক্ষ “ব্ল্যাক হোল” আছে — কিন্তু আমরা সেগুলো দেখতে পারি না। কারণ তারকাদের আলো ব্ল্যাক হোলে পড়ে ফিরে আসতে পারে না। আলোয়ের গতি প্রতি সেকেন্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটার, কিন্তু এত দ্রুতগতির আলোও ব্ল্যাক হোলের টান থেকে বেরোতে পারে না। আর মহাবিশ্বে আলো থেকে দ্রুতগতির কিছুই নেই। অর্থাৎ, একবার ব্ল্যাক হোলের ভেতরে চলে গেলে সেখান থেকে বেঁচে বেরিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। যে কোনো জিনিস তার “ইভেন্ট হরাইজন”-এ ঢুকে পড়লেই শেষ—চাই সে যত বড়ই হোক না কেন।
নাসার হিসাবে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের ব্ল্যাক হোলটি আমাদের গ্যালাক্সি “মিল্কিওয়ে”-তে, প্রায় ১৬০০ আলোকবর্ষ দূরে। তবে এটি একটাই নয়—এ রকম আরও অসংখ্য ব্ল্যাক হোল রয়েছে। এর মহাকর্ষ (গ্র্যাভিটি) এত প্রবল যে, এমনকি “ফোটন” নামের আলো কণাও যদি এর বিশেষ অঞ্চলে ঢোকে, তাও পালাতে পারে না—যদিও ফোটনের কোনো ভরই নেই! তাহলে আমাদের তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
ধরা যাক, আমরা এমন এক মহাকাশযানে বসেছি, যা প্রতি সেকেন্ডে ২,৮০০০০ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের ব্ল্যাক হোলের দিকে যাচ্ছে (যা বাস্তবে সম্ভব নয়)। কিন্তু ধরে নিই সম্ভব হলো। এখন যদি সেই মহাকাশযান “ইভেন্ট হরাইজন”-এর ভেতরে ঢুকে পড়ে, তাহলে তুমি নিশ্চিতভাবে ব্ল্যাক হোলের ভিতরে চলে যাবে। কিন্তু ভেতরে কী আছে? — কেউ জানে না, আর জানা সম্ভবও নয়।
ব্ল্যাক হোল তখন তোমার মহাকাশযানটিকে নিচের দিকে টেনে নেবে। এমনকি তুমি যদি গতি বাড়িয়ে তিন লক্ষ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ডও করো, তবুও রক্ষা নেই — পালানো অসম্ভব। তুমি যত চেষ্টা করো, শেষ পর্যন্ত ব্ল্যাক হোলের মধ্যেই ঢুকে যাবে।
এখন ধরো, কোনোভাবে তুমি বেঁচে ফিরে পৃথিবীতে ফিরে এলে — কিন্তু তখন দেখবে, সবকিছু বদলে গেছে। তোমার বন্ধু, ভাই, পরিবারের মানুষ, এমনকি তোমার নাতি—সবাই বুড়ো হয়ে গেছে বা মারা গেছে। কারণ এই সময়ের মধ্যে পৃথিবীতে অনেক যুগ কেটে গেছে।
কিন্তু যদি তোমার কাছে এমন একটি দূরবীন থাকে, যার সাহায্যে তুমি ব্ল্যাক হোলের কাছ থেকে পৃথিবীর দিকে তাকাও, তাহলে দেখবে — এক শিশু জন্ম নিচ্ছে, তারপর মুহূর্তের মধ্যেই বুড়ো হয়ে মারা যাচ্ছে! তোমার কাছে মনে হবে কয়েক সেকেন্ডে সব হয়ে গেল, অথচ পৃথিবীতে তার আশি বছরের জীবন কেটে গেছে। আর তোমার নিজের সময়? — তোমার এক বছরও পেরোয়নি!
এমনটা কেন হয়? কারণ ব্ল্যাক হোলের কাছে সময় ধীরে চলে। বিশাল মহাকর্ষ সময়কে ধীর করে দেয়। যত বেশি গ্র্যাভিটি, তত ধীরে সময় প্রবাহিত হয়। ব্ল্যাক হোলের ভেতরে তোমার কাছে সময় কেবল কয়েক মুহূর্তের মতো লাগবে, কিন্তু পৃথিবীর হিসেবে সেটা হাজার হাজার বছর হতে পারে।
اردو تحریر - تحسین الله خان

Comments
Post a Comment