যে হৃদয় সত্যকে খুঁজে—আল্লাহ তাকে আলোর পথ দেখান। জোনাথন ব্রাউনের ইসলাম গ্রহণ সেই আলোরই নিঃশব্দ বিস্ময়
“যে হৃদয় সত্যকে খুঁজে—আল্লাহ তাকে আলোর পথ দেখান। জোনাথন ব্রাউনের ইসলাম গ্রহণ সেই আলোরই নিঃশব্দ বিস্ময়
।”
আজ অনেক মনে করেন, ২০–২২ বছরের তরুণেরা নাকি এখনো সালাত, ছিয়াম, হিজাব—এসবের জন্য প্রস্তুত নয়।
কিন্তু তারা জানেন না—এই বয়সেই কেউ কেউ সত্যের ডাকে সাড়া দিয়ে বদলে দেয় নিজের পুরো জীবন, এমনকি বিশ্বও।
সেইসব বিরল তরুণদের একজন—ড. জোনাথন এ.সি. ব্রাউন।
খ্রিস্টান পরিবারে জন্ম, চার্চের আবহে বেড়ে ওঠা—
তবুও তার মন ছিল অদৃশ্য এক সত্যের খোঁজে অস্থির। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে ইসলামের ওপর একটি কোর্স তার হৃদয়ের দরজায় আলতোভাবে নক করে।
শিক্ষিকার মুখে শোনেন ঈমান, যুক্তি, ন্যায়, করুণা—
যেগুলোর ওপর তিনি সারাজীবন বিশ্বাস করেছিলেন, কিন্তু কখনো কোনো ধর্মে এভাবে পাননি।
তিনি বলেন—
“সেমিস্টারের শেষে আমি নিজেকে মুসলিমের মতোই অনুভব করছিলাম।”
১৯৯৭ সালের এক গ্রীষ্মে তিনি ইউরোপ–মরক্কো ভ্রমণ করেন, বই পড়েন, চিন্তা করেন।
আর ফিরে এসে ২য় বর্ষের শুরুতেই ঘোষণা করেন "
তিনি মুসলিম।
মাত্র ২০ বছরে সত্যের কাছে আত্মসমর্পণ।
মনে হয় যেন আল্লাহ তার হেদায়েতর পথ কে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনার জন্য।
ড. ব্রাউন ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সিয়াটলে অবস্থিত ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্য ভাষা ও সভ্যতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। ২০১০ সাল থেকে অদ্যবধি তিনি জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম শিক্ষা এবং মুসলিম-খ্রিষ্টান সম্পর্ক বিভাগে অধ্যাপনায় নিয়োজিত আছেন। অধিকন্তু তিনি আমেরিকার কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশন্স-এরও একজন খন্ডকালীন সদস্য।
উনার একটা বিখ্যাত বই হচ্ছে The Misquoting Muhammad ﷺ
যেখানে সমালোচকদের জওয়াব দেওয়া হয়েছে।
১. মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০১১ ইং)।
২. হাদীছ : মধ্যযুগ এবং আধুনিক যুগে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর রেখে যাওয়া আদর্শের বাস্তবতা (২০০৯ ইং)।
৩. বুখারী ও মুসলিম শরীফের সংকলন: সুন্নী হাদীছ সংকলন পদ্ধতি ও তার ব্যবহারিক নীতিমালা (২০০৭ ইং)।

Comments
Post a Comment