গবেষণাগারের নীরবতা থেকে কুরআনের আলো বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের মিলনবিন্দুতে ড. ফাতিমা জ্যাকসন।”
ড. ফাতিমা জ্যাকসন স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার সময় তিনি ডুবে ছিলেন জেনেটিক্স, মানব জীববিজ্ঞান ও নৃতত্ত্বের জটিল প্রশ্নে। মানুষের উৎপত্তি, বৈচিত্র্য, জীবনধারার নেপথ্যের নিয়ম—সবকিছু তিনি খুঁজছিলেন বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও পরীক্ষার আলোকে। কিন্তু সেই অনুসন্ধানের মাঝেই তার অন্তরে জন্ম নিচ্ছিল এক গভীর প্রশ্ন:
এই সুবিন্যস্ত নিয়ম, এই সূক্ষ্ম সামঞ্জস্য, এই অর্থবহ জটিলতা—এর নৈতিক ভিত্তি কোথায়?
বিজ্ঞান তাঁকে “কীভাবে” শেখাচ্ছিল, কিন্তু “কেন” প্রশ্নটির উত্তর কোথাও যেন অপূর্ণ থেকে যাচ্ছিল।
এই সময়েই তিনি ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হন—প্রথমে পাঠের মাধ্যমে, পরে চিন্তার মাধ্যমে। কুরআনের আয়াতগুলো তার কাছে শুধু ধর্মীয় বাণী ছিল না; সেগুলো ছিল এমন এক ভাষা, যা মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা, জীবনের উদ্দেশ্য ও মানুষের দায়িত্বকে একসূত্রে বেঁধে দেয়। তিনি আবিষ্কার করলেন, ইসলাম অন্ধ বিশ্বাস চায় না—বরং চিন্তা করতে বলে, প্রশ্ন করতে উৎসাহ দেয়, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণকে ইবাদতের মর্যাদা দেয়।
তার কাছে সবচেয়ে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল ইসলামের নৈতিক দর্শন
জ্ঞান মানে ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব।
গবেষণা মানে শুধু আবিষ্কার নয়, মানবকল্যাণ।
মানুষ মানে কেবল জৈবিক সত্তা নয়, নৈতিক ও আত্মিক অস্তিত্ব।
এই উপলব্ধি ধীরে ধীরে তার হৃদয়ে এক প্রশান্ত আলো জ্বালিয়ে দেয়। বিজ্ঞান ও বিশ্বাস আর দুই বিপরীত মেরু রইল না—বরং তারা একে অপরকে পূর্ণতা দিতে শুরু করল। অবশেষে ১৯৭৯ সালে, গভীর চিন্তা, অন্তরের টান এবং আত্মিক শান্তির খোঁজ থেকে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইসলাম গ্রহণের পর ড. ফাতিমা জ্যাকসনের জীবন ও গবেষণায় নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হয়। তাঁর বিজ্ঞানচর্চা আরও মানবিক হয়, আরও ন্যায়ভিত্তিক হয়। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন—জ্ঞান তখনই পূর্ণ হয়, যখন তা নৈতিকতা ও করুণার সঙ্গে যুক্ত হয়।
আজও তিনি প্রমাণ করে চলেছেন, একজন বিজ্ঞানী একই সঙ্গে গভীরভাবে বিশ্বাসী হতে পারেন; আর বিশ্বাস বিজ্ঞানকে সংকুচিত করে না—বরং তাকে অর্থ, দায়িত্ব ও উদ্দেশ্য দান করে।
সংক্ষিপ্ত পরিচয়
ফাতিমা জ্যাকসন (১৯৫০–বর্তমান)
ড. ফাতিমা জ্যাকসন একজন খ্যাতনামা আমেরিকান জীববিজ্ঞানী ও নৃতত্ত্ববিদ। জেনেটিক্স, মানব জীববিজ্ঞান এবং এথনোজেনেটিক্সে তাঁর যুগান্তকারী গবেষণার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণকারী ড. জ্যাকসন স্নাতকোত্তর পড়াশোনার সময়, ১৯৭৯ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন।
বর্তমানে তিনি হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং একই সঙ্গে W. Montague Cobb Research Laboratory ল্যাবরেটরির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র হলো মানব–উদ্ভিদ সহ-বিবর্তন, জনসংখ্যাগত জেনেটিক্স এবং স্বাস্থ্যগত বৈষম্য। জীববিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের পারস্পরিক সম্পর্ক অনুধাবনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ড. জ্যাকসন তাঁর বিশ্বাস থেকে অনুপ্রাণিত একটি সামগ্রিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে একীভূত করার জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত।
Rekaul Sk


Comments
Post a Comment