আমরা বিভিন্ন টেলিস্কোপ দিয়ে মহাবিশ্বের বিশাল সব কাঠামো দেখতে পারি, কিন্তু কোনোদিন সেদিকে পৌঁছাতে পারব না।

 আপনারা বিশ্বাস করবেন না… কিন্তু এটা সত্য যে আমি মাঝে মাঝে কাঁদি… এই ভেবে যে আমরা কতটাই না দুর্বল, আর মহাবিশ্ব কতটা বিস্ময়করভাবে বিশাল… কখনো কখনো মনে হয়, যদি ‘অ্যাস্ট্রোনমি’ সম্পর্কে কিছুই না জানতাম! কিন্তু এখন আমি এত গভীরভাবে এর মধ্যে ঢুকে গেছি যে ফিরে যাওয়ার কোনো পথই নেই। কখনো কখনো আমি হতাশায়ও ডুবে যাই—কারণ আমরা মহাবিশ্বের 99.9999999999% অংশ সম্পর্কেই কিছু জানি না।


আমরা বিভিন্ন টেলিস্কোপ দিয়ে মহাবিশ্বের বিশাল সব কাঠামো দেখতে পারি, কিন্তু কোনোদিন সেদিকে পৌঁছাতে পারব না।


আমরা এতটাই দুর্বল ও অসহায় যে মহাবিশ্বের মাত্র 1% অংশের ভেতরেও পুরোপুরি উঁকি দিতে পারি না—ঘুরে দেখা তো অনেক দূরের স্বপ্ন।


ধরুন, আপনার আয়ু ৬০ বছরের বদলে ৬০ কোটি বছর হলো—যা অবশ্যই অসম্ভব—এবং আপনি এমন একটি SpaceX-এর মহাকাশযানে বসেছেন যা প্রতি সেকেন্ডে ২০০ কিলোমিটার বেগে ছুটছে। আপনি যদি পুরো ৬০ কোটি বছর ধরে নিচে বিস্তৃত ‘কসমিক ওয়েব’-এর ওপর দিয়ে যাত্রা করেন, তবুও আপনার জীবন শেষ হয়ে যাবে… কিন্তু কখনোই এই কসমিক ওয়েবের অন্য ‘প্রান্তে’ পৌঁছাতে পারবেন না। এতটাই বিশাল এই কাঠামো। অথচ মহাবিশ্বে শুধু এই একটিই স্ট্রাকচার নয়—এমন অসংখ্য বিশাল কাঠামো রয়েছে।


কসমোলজিস্ট রিচার্ড গট প্রথম দাবি করেছিলেন যে আমাদের ইউনিভার্স বা মহাবিশ্বের গঠন অনেকটা স্পঞ্জের মতো—যেখানে অসংখ্য সুপার-ক্লাস্টার পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে এক দারুণ ও শৈল্পিক জটিল কাঠামো তৈরি করেছে। নিচের যে ছবির কথা বলছি, সেটাই সেই কাঠামো—যাকে বলা হয় কসমিক ওয়েব। এটি আমাদের চিন্তার ক্ষমতার বহু ওপারের বিষয়।


ধারণা করা হয়, এমন কাঠামো গঠিত হয় ২০,০০০ থেকে ২৪,০০০ গ্যালাক্সি এবং এক হাজারেরও বেশি ‘সংযোগ’ বা ফিলামেন্ট দিয়ে। আপনারা যে ছবিটি দেখছেন—এটাই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় স্ট্রাকচার। মহাবিশ্বে এর চেয়ে বড় আর একটাই জিনিস আছে—মহাবিশ্ব নিজে। এই কাঠামোর নাম Cosmic Web।


অবাক করার মতো বিষয় হলো—এই কসমিক ওয়েবের দৈর্ঘ্য ৬.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ! আর মহাবিশ্ব বিস্তৃত ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ জুড়ে। এখান থেকেই আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন এটি কতটা সুবিশাল। কিন্তু এর থেকেও বিস্ময়কর হলো, এর ভেতরে এত তারকা ও গ্রহ রয়েছে যে আপনি ৬০ বছরেও শুধু গুনে শেষ করতে পারবেন না। এসব হিসাব করতে হয় নাসার সুপারকম্পিউটার দিয়ে, যা প্রতি সেকেন্ডে ২০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ গণনা করতে পারে।


আমি আবারও বলছি—আমি এখানে পুরো মহাবিশ্বের কথা বলছি না, বরং মহাবিশ্বের মাত্র একটি স্ট্রাকচারের কথা বলছি।


আপনি ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে একজন, একটি গ্রহে বাস করেন—যা ৮টি গ্রহের একটি, একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। সেই নক্ষত্র আবার ৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের একটি, একটি গ্যালাক্সির ভেতরে। আর এই গ্যালাক্সি ২০০০ বিলিয়ন গ্যালাক্সির ভিড়ে একটিমাত্র ছোট্ট গ্যালাক্সি—যার মূল্য মহাবিশ্বে বালুকণারও কম।”


إن الله على كل شيء قدير 


اردو تحریر - تحسین الله خان ، مؤلف ' شتاروں کے اس پار

Comments

Popular posts from this blog

মহাকাশে এক বিশাল সমুদ্র

আমি কেন আল্লাহকে মানি ?

মেরাজের যাত্রা টেলিস্কোপ এবং ধারণার বাইরে