কিছু মানুষ বলে—আমরা রব্ব প্রতিপালক ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, মানুষ আসলে কী? কেউ আমাদের ওপর বিশ্বাস করুক বা না করুক, তাতে আমাদের সত্তার কী পরিবর্তন হয়? ঠিক তেমনই, কেউ ঈশ্বরে বিশ্বাস করুক বা না করুক—তাতে ঈশ্বরের সত্তায় কোনো পার্থক্য ঘটে না। পার্থক্যটি ঘটে কেবল মানুষের ভেতরেই।
যদি আমরা মহাবিশ্বের দিকে তাকাই, তাহলে সর্বত্র এক মহিমান্বিত ভারসাম্য দেখতে পাই। বিশেষ করে পৃথিবীর দিকে তাকালে বিস্মিত হতে হয়—কারণ পৃথিবী এক নয়, চার ধরনের গতিতে চলছে: নিজের অক্ষে ঘুরছে, সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, সূর্যের সঙ্গে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির চারদিকে ঘুরছে, আর পুরো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির দিকে এগিয়ে চলেছে। তবু আমরা কখনোই অনুভব করি না যে পৃথিবী চলমান। এই আশ্চর্যজনক ভারসাম্য কে বজায় রেখে চলেছে?
মহাবিশ্বে কোনো কিছুই স্থির নয়—সবকিছুই গতিশীল। তবু পুরো ব্যবস্থাটি এক নিখুঁত ভারসাম্যের সঙ্গে চলছে। আজ আপনি যদি মহাশূন্যে গিয়ে কয়েকশ বিজ্ঞানী নিয়ে মাত্র দুইটি জিনিসকে সম্পূর্ণ ভারসাম্যে রাখতে চান, আপনি তা পারবেন না। অথচ মহাবিশ্বে প্রায় ২৪ অক্টিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে, যারা একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থার অধীনে চলমান। সত্যিই কি এসব কিছু আপনাআপনি, কোনো শক্তি ছাড়াই, কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ঘটে গেছে? সামান্য বুদ্ধি দিয়ে ভাবলেও কেউ এ কথা অস্বীকার করতে পারে না। এত বিশাল, সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ একটি ব্যবস্থা স্রষ্টা ছাড়া সম্ভবই নয়।
এবার মানুষের দেহের দিকে তাকান—বিশেষ করে ফুসফুসের দিকে। ফুসফুস হলো সেই অঙ্গ, যা বাতাস থেকে অক্সিজেন রক্তে মেশায় এবং রক্ত থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের ফুসফুসে প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন ক্ষুদ্র বায়ুথলি রয়েছে। এগুলো যদি পুরোপুরি ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে একটি টেনিস কোর্টের সমান এলাকা জুড়ে যাবে। আরও বিস্ময়কর হলো—রক্ত ২৮০ বিলিয়নেরও বেশি সূক্ষ্ম নালির মাধ্যমে এসব থলিতে পৌঁছায়। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার রক্ত ফুসফুসের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, যেখানে লাল রক্তকণিকা অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সম্পন্ন হয় এবং সবকিছু একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার অধীনে চলছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—মায়ের গর্ভে শিশুর ফুসফুস কাজ করে না। সেখানে একটি বিশেষ ব্যবস্থা থাকে, যা রক্তকে ফুসফুসে যেতে বাধা দেয়। শিশুটি জন্ম নিয়ে প্রথম শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার ফুসফুস খুলে যায় এবং জীবন শুরু হয়। যে শিশু মায়ের গর্ভে নয় মাস শ্বাস ছাড়াই থাকে, সে বাইরে আসার পর কয়েক মিনিটও শ্বাস ছাড়া থাকতে পারে না। তাহলে বাতাসে এমন কী আছে, যা জীবন ও মৃত্যুর ফয়সালা করে দেয়?
মহাবিশ্ব হোক বা মানবদেহ—সব জায়গাতেই স্রষ্টার নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। যে ব্যক্তি এসব দেখেও অস্বীকার করে, তার জন্য আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই থাকে না…!!!
اردو سے ترجمہ Rekaul Sk
اردو تحریر - تحسین الله خان، مؤالف شتاروں کے اس پار۔

Comments
Post a Comment