কোথায় আপনি নিজেকে খুঁজুন
যদি ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স আপনাকে ২০২৫ সালের একদম নতুন একটি মহাকাশযান দিত—যা সেকেন্ডে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে—এবং আপনি সেই যানটিকে তিন হাজার বছর ধরে বিরামহীনভাবে চালিয়ে যেতেন, তবুও আপনি সেই বিশাল আকারের যে গ্যালাক্সি যাকে “পারসিয়াস ক্লাস্টার” বলা হয়, সেটি অতিক্রম করতে পারতেন না।
হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন এবং শুনেছেন—এই ঝাঁকে যেসব আলোর বিন্দু দেখা যায়, প্রতিটি বিন্দুই আসলে নিজে নিজে একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সি। প্রতিটি গ্যালাক্সি অন্যটির থেকে দশ থেকে দুইশো আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করে। তাদের মধ্যকার ফাঁকা জায়গা বিশাল, আবার প্রতিটি গ্যালাক্সির ভিতরে ছড়িয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ নক্ষত্রের মধ্যকার দূরত্বও আমাদের নাগালের বাইরে।
এই পুরো ঝাঁকে আছে এক হাজারেরও বেশি গ্যালাক্সি, এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে পারসিয়াস ক্লাস্টার বিস্তৃত ৭ কোটি ৫০ লক্ষ আলোকবর্ষ জুড়ে
।
এক মিনিট ভেবে দেখুন—পারসিয়াস ক্লাস্টার যদি এত বিশাল হয়, তবে পুরো মহাবিশ্ব কতটা বিস্তৃত হতে পারে?
যদি আমরা দূরবীন আবিষ্কার না করতাম, তাহলে মহাবিশ্বের আকার-আকৃতি এবং আমাদের দৃষ্টির বাইরে থাকা বাস্তবতার কথা কখনই জানতে পারতাম না। আজও অনেকেই রাতের আকাশে দেখা তারা আর কয়েকটি গ্রহকেই পুরো মহাবিশ্ব মনে করেন, অথচ এই বিশাল মহাবিশ্বে ওই তারাগুলোর অবস্থান পৃথিবীর দুই ট্রিলিয়ন কণার ভিড়ে একটি বালুকণার সমান।
আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে–তে রয়েছে প্রায় চারশো বিলিয়ন (৪০ হাজার কোটি) নক্ষত্র। অথচ পরিষ্কার আকাশে মানুষ চোখে দেখতে পারে মাত্র কয়েক হাজার। যদি এই চারশো বিলিয়নের মধ্য থেকে লক্ষ লক্ষ তারাও হারিয়ে যায়, মিল্কিওয়ের ওপর প্রভাব হবে সেই রকমই, যেমন বিশাল মহাসাগর থেকে এক গ্লাস পানি তুলে নিলে হয়—অর্থাৎ, কোনো পার্থক্যই হবে না।
এবার শুধু মিল্কিওয়ে থেকে বাইরে তাকান। আছে লোকাল গ্রুপ, তারপর তারও বাইরে ভার্গো সুপারক্লাস্টার—যেখানে রয়েছে আমাদের পুরো সৌরজগৎ, আমাদের গ্যালাক্সি এবং এর মতো অগণিত আরেক গ্যালাক্সি। কিন্তু মহাবিশ্বের বিশালতার সামনে এগুলো সবই এক কণার চেয়েও ক্ষুদ্র।
হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন—যদি পুরো ভার্গো সুপারক্লাস্টারই তার সব গ্যালাক্সিসহ অদৃশ্য হয়ে যায়, তবুও মহাবিশ্বের ওপর প্রভাব পড়বে ঠিক ততটাই, যতটা পৃথিবী থেকে একটি বালির দানা হারিয়ে গেলে হয়—অর্থাৎ কিছুই পরিবর্তন হবে না, কারণ মহাবিশ্ব অত্যন্ত বিশাল।
মহাবিশ্ব শুধু বিস্তৃতই নয়, বরং অবিশ্বাস্যভাবে সুন্দরও। এর বিন্যাস, এর গঠন, এর মহারূপ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে এটিকে অত্যন্ত সূক্ষ্মতা ও অলৌকিক সৌন্দর্যের সাথে সৃষ্টি করা হয়েছে।
যিনি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন—তিনি কত মহান, কত অপরিসীম।
الحمد لله رب العالمین
اردو تحریر - تحیسن الله خان, مؤلف شتاروں کے اس پار

Comments
Post a Comment