প্রোফেসর জ্যাকি ইয়ি-রু ইয়িং: বিজ্ঞান থেকে হিদায়াহর পথে


প্রোফেসর জ্যাকি ইয়ি-রু ইয়িং—তাইওয়ানে জন্ম নেওয়া এক অসাধারণ মেধাবী নারী। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের আকাশে তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র। ন্যানোটেকনোলজির জগতে তাকে অনেকে “রাণী” বলেই চেনেন। নিজের হাতে তিনি সিঙ্গাপুরে গড়ে তুলেছেন বিশ্বমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের জন্য পেয়েছেন বহু আন্তর্জাতিক সম্মান—কিং ফয়সাল প্রাইজের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার তার কৃতিত্বকে আরও মহিমান্বিত করেছে।


দিনরাত ল্যাবরেটরিতে কাজ করে তিনি মানবজাতির কল্যাণে নতুন নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছেন। বিশ্ব তাকে সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে।


তবুও তার ভেতরে ছিল এক অদ্ভুত শূন্যতা। সব কিছু থাকা সত্ত্বেও যেন কিছু একটা অনুপস্থিত—কিছু একটা, যা বিজ্ঞান দিয়ে পূরণ করা যায় না।


সেই শূন্যতার উত্তর আসে ২০০১ সালে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র । যেমন সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইটস টাইমস, মুসলিম ৫০০ লিস্ট, এবং তার নিজের সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, ত্রিশের দশকের শুরুতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আশ্চর্যের বিষয়, সেই বছরেই মহান আল্লাহ তাকে এক কন্যা সন্তান দান করেন।


ইসলামের সাথে তার প্রথম পরিচয় ঘটে সেকেন্ডারি স্কুলে—এক মুসলিম বন্ধুর মাধ্যমে। কিন্তু ত্রিশের দশকে পৌঁছে তিনি ধর্ম ও অস্তিত্বের প্রশ্নে আরও গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন। খোঁজ করতে গিয়ে তিনি ইসলামের ভেতর খুঁজে পান সরলতা, যুক্তি ও প্রশান্তি।


তিনি উপলব্ধি করেন—এ কোনো জটিল ধর্ম নয়;

এ এক আল্লাহর দাসত্ব,

এ সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা,

এ হৃদয়ের শান্তির ঠিকানা।


একদিন ভেজা চোখ আর কাঁপা কণ্ঠে তিনি উচ্চারণ করেন—


أشهد أن لا إله إلا الله

وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله


সেই মুহূর্ত থেকে তার জীবন নতুন পথে মোড় নেয়। তিনি হিজাব গ্রহণ করেন, নামাজে দাঁড়ান, কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত করতে করতে চোখ ভিজে ওঠে। তিনি মুসলিম তরুণ-তরুণীদের পথ দেখান, উৎসাহ দেন, অনুপ্রেরণা জোগান। বিশ্বের প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বদের তালিকায় বারবার উঠে আসে তার নাম।


যিনি একসময় ধর্মের ছায়া থেকে দূরে ছিলেন, আল্লাহ তাকে এমনভাবে টেনে নিলেন যে আজ তিনি অনেকের কাছে ইসলামের এক জীবন্ত সাক্ষ্য।


আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন তাকে হিদায়াহ দেন।

তিনি বংশ দেখেন না, পদ-পদবি দেখেন না,

বিজ্ঞানের উচ্চতাও নয়—

শুধু তাঁর রহমতের একটি ঝলকই যথেষ্ট।


---


সংক্ষেপে পরিচয়


প্রোফেসর জ্যাকি ইয়ি-রু ইয়িং একজন তাইওয়ানে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন ন্যানোপ্রযুক্তি বিজ্ঞানী। উন্নত ন্যানোম্যাটেরিয়াল সংশ্লেষণ এবং সেগুলোর অনুঘটক (catalysis), শক্তি রূপান্তর (energy conversion) ও জৈব-চিকিৎসা (biomedicine) ক্ষেত্রে প্রয়োগে তার অবদান বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।


তিনি ১৯৬৬ সালের ৩০ এপ্রিল তাইপে, তাইওয়ানে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে সিঙ্গাপুরে চলে যান এবং রুলাং প্রাইমারি স্কুল ও র‍্যাফেলস গার্লস স্কুলে পড়াশোনা করেন।

১৯৮৭ সালে কুপার ইউনিয়ন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং ১৯৯১ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।


২০০১ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন—এ বছরেই তার কন্যার জন্ম হয়। ওই সময়কার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও গভীর আত্মঅনুসন্ধান তার জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

Comments

Popular posts from this blog

মহাকাশে এক বিশাল সমুদ্র

আমি কেন আল্লাহকে মানি ?

মেরাজের যাত্রা টেলিস্কোপ এবং ধারণার বাইরে