“জ্ঞান যখন পথ হারায় না—তখন তা পৌঁছে যায় তাওহীদের দিগন্তে।”

 কারা যেন বলে কোনো সাইন্টিস্ট মুসলমান হয়না?

“জ্ঞান যখন পথ হারায় না—তখন তা পৌঁছে যায় তাওহীদের দিগন্তে।” 



স্কটল্যান্ডের নীরব রক্সবার্গে ১৮৪৪ সালে জন্ম নেওয়া টমাস লডার ব্রুন্টন Dr. Thomas Lauder Brunton

 একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী, একজন গবেষক, একজন বিজ্ঞানমনের মানুষ। ছোটবেলা থেকেই যিনি মানবদুঃখ লাঘবকে নিজের নেশা বানিয়ে ফেলেছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের ফার্মাকোলজি বিভাগে শিক্ষার দরজা খুলে তাঁর জীবন হয়ে উঠল জ্ঞান আর অনুসন্ধানের এক বিরাট নদী। পরে সেন্ট বার্থলোমিউজ হাসপাতালের ব্যস্ত করিডোরে চিকিৎসা দিতে দিতে তিনি হয়ে উঠলেন মানুষের আশ্রয়, বিজ্ঞানের এক উজ্জ্বল প্রদীপ।


মানবসেবার জন্য রাণী ভিক্টোরিয়ার হাতে নাইটহুড—আর পরে ‘বেরনট’ খেতাব। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে ‘এমাইল নাইট্রাইট’-এর মাধ্যমে এনজাইনা পেকটরিজের চিকিৎসায় তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়।


কিন্তু বিজ্ঞানের এই দিগন্তবিস্তৃত যাত্রার মাঝেই তাঁর হৃদয়ের ভেতর ধীরে ধীরে জন্ম নিল আরেক অনুসন্ধান—সত্যের অনুসন্ধান, স্রষ্টার সন্ধান।


শৈশবে খ্রিস্টান মা-বাবার কোলে বড় হওয়া ব্রুন্টন ধর্মতত্ত্বে গভীর আগ্রহ পোষণ করতেন। তিনি নিয়মিত চার্চে যেতেন, মিশনারি কাজেরও ইচ্ছে ছিল। কিন্তু ‘দুঃখ চিরন্তন’ মতবাদ তাঁকে ঘিরে ফেলল এক অস্বস্তিতে। তাঁর মন প্রশ্ন তুলল—

কীভাবে এক ন্যায়পরায়ণ, প্রেমময় স্রষ্টা তাঁর সৃষ্ট জীবকে অনন্ত দুঃখে নিক্ষেপ করতে পারেন?

কীভাবে সীমাহীন দয়া থেকে জন্ম নেওয়া মানবজাতির জন্য নির্ধারণ হবে কেবল কষ্ট?


এই প্রশ্নগুলো তার ভেতরের বিশ্বাসকে কাঁপিয়ে দিল। তিনি সত্যের সন্ধানে অন্য ধর্মগুলো পড়তে শুরু করলেন—শান্ত মনকে প্রশান্ত করার তীব্র আকাঙ্ক্ষায়।


বাইবেল পড়লেন নিরপেক্ষ চোখে। বুঝলেন তিনি অর্ধেক জানেন, পুরো সত্য জানেন না। সত্য জানতে হলে তাঁকে আরও এগোতে হবে, আরও গভীরে ডুবতে হবে।


এভাবেই তিনি হাতে নিলেন ইসলাম—একটি ধর্ম নয়, এক অফুরন্ত আলো, এক শাশ্বত পথ।


নবী মুহাম্মাদ ﷺ -এর জীবনী পড়তে গিয়ে তাঁর হৃদয় বদলে গেল।

যে মানুষটির সম্পর্কে খ্রিস্টানদের মুখে তিনি শুনেছেন অভিযোগ, তিরস্কার — সেই মানুষটিকে যখন তিনি নিরপেক্ষভাবে পড়লেন, তখন তাঁর ভেতর আলোর মতো ছড়িয়ে পড়ল সত্য।


তিনি দেখলেন—

যে জাতি মূর্তিপূজা, অশ্লীলতা, অজ্ঞতার অতলে ডুবে ছিল, সেই জাতিকে মুহাম্মাদ ﷺ কাপড় পরতে শিখিয়েছেন, পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা দিয়েছেন, আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছেন, মানুষকে মানুষ হতে শিখিয়েছেন।

অন্ধকারে ডুবে থাকা সমাজকে এনে দিয়েছেন এক আল্লাহর চিরন্তন আলো।


তিনি বিস্মিত হলেন এমন একজন মহামানবকে কীভাবে মানুষ ভুল বোঝে?

কীভাবে তাকে নিন্দা করা হয়, যার অবদানে মানবসভ্যতা পথ খুঁজে পেয়েছে?


যখন তিনি সত্যের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন, ঠিক তখন ভারত থেকে এলেন মিয়া আমীরুদ্দিন—লাহোরের প্রথম মেয়র।

তার সঙ্গে কয়েকটি কথোপকথনই ব্রুন্টনের ভেতরের আগুনকে শিখায় রূপ দিল।


আর একদিন—নীরবে, গভীরভাবে, হৃদয় খুলে—

তিনি ঘোষণা করলেন আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, এবং মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর রসূল।


তিনি হয়ে গেলেন স্যার জালালুদ্দীন লডার ব্রুন্টন এক নতুন আলোয় স্নাত এক নতুন মানুষ।


১৯১৬ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


আল্লাহ তাআলা উনার উপর রহম করুক আমীন

Comments

Popular posts from this blog

মহাকাশে এক বিশাল সমুদ্র

আমি কেন আল্লাহকে মানি ?

মেরাজের যাত্রা টেলিস্কোপ এবং ধারণার বাইরে