পৃথিবী গোল নাকি সমতল এ ব্যাপারে কুরআন কী বলে?




 পৃথিবী গোল নাকি সমতল এ ব্যাপারে কুরআন কী বলে? 


আল কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর প্রাচীন আলিমদের ইজমা বা ঐক্যমত ছিল যেঃ পৃথিবী গোল।


শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবন তাইমিয়া(র.) বর্ণনা করেছেনঃ আবুল হুসাইন ইবনুল মুনাদি(র.) {ইমাম আহমাদ(র.) এর ছাত্রের ছাত্র } বলেছেন,  


وكذلك أجمعوا على أن الأرض بجميع حركاتها من البر والبحر مثل الكرة . قال : ويدل عليه أن الشمس والقمر والكواكب لا يوجد طلوعها وغروبها على جميع من في نواحي الأرض في وقت واحد ، بل على المشرق قبل المغرب


অর্থঃ “...একইভাবে তাঁরা (আলেমগণ) একবাক্যে একমত হয়েছেন যে, ভুপৃষ্ঠ এবং সমুদ্র ধারণকারী পৃথিবী একটি গোলকের ন্যায়। তিনি বলেন, এর ইঙ্গিত তো পাওয়া যায় এই ব্যাপারটি থেকে - সূর্য, চন্দ্র এবং তারকারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে একই সাথে উদয় ও অস্ত যায় না। বরং এটি (উদয়-অস্ত) পশ্চিম দিকের চেয়ে পূর্বদিকে আগে ঘটে।” 

মাজমু আল ফাতাওয়া ২৫/১৯৫


আবু মুহাম্মাদ ইবন হাজম(র.) বলেছেনঃ


وهذا حين نأخذ إن شاء الله تعالى في ذكر بعض ما اعترضوا به ، وذلك أنهم قالوا : إن البراهين قد صحت بأن الأرض كروية ، والعامة تقول غير ذلك ، وجوابنا وبالله تعالى التوفيق : أن أحداً من أئمة المسلمين المستحقين لاسم الإمامة بالعلم رضي الله عنهم لم ينكروا تكوير الأرض ، ولا يحفظ لأحد منهم في دفعه كلمة ، بل البراهين من القرآن والسنة قد جاءت بتكويرها ... " 


অর্থঃ (পৃথিবী গোল এ কথার) বিরুদ্ধে যেসব যুক্তি দেয়া হয় আমরা এর কয়েকটির ব্যাপারে আলোচনা করব।


তাঁরা বলেন, পৃথিবী গোল এ ব্যাপারে ভালো প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু আম জনতা এর বিপরীত কথা বলে। আল্লাহর তাওফিকে এ ব্যাপারে আমাদের জবাবঃ মুসলিম উম্মাহর কোনো ইমাম অথবা ইলমের দ্বারা যারা ইমাম অভিধা লাভের যোগ্য (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) – তাদের কেউই এ কথা অস্বীকার করেননি যে পৃথিবী গোল। তাঁদের থেকেই কথা অস্বীকার করে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায়নি। বরং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত হয় যে এটি (পৃথিবী) গোল। 

'আল ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া’ ওয়ান নিহাল ২/৭৮


শায়খ ইবন উসাঈমিন(র.) তাঁর ফাতাওয়া নুরুন ‘আলাদ দারব গ্রন্থে বলেছেন,


পৃথিবী গোল। এই কথার ভিত্তি হচ্ছে কুরআন, বাস্তবতা এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী।


কুরআনের প্রমাণ হচ্ছে এই আয়াতটি, যেখানে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,


 خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ ۖ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ ۖ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى ۗ أَلَا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ


 তিনি [আল্লাহ] যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাতকে দিনের উপর এবং দিনকে রাতের উপর জড়িয়ে দিয়েছেন এবং নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন সূর্য ও চাঁদকে। প্রত্যেকে এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলছে। জেনে রাখ, তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল। 


আল কুরআন, যুমার ৩৯ : ৫


এখানে يُكَوِّرُ শব্দটির মানে হল জড়িয়ে দেয়া (বা পেচিয়ে দেয়া) যেভাবে পাগড়ি পেচানো হয়। এটি সবাই জানে যে পৃথিবীতে রাত ও দিন একে অন্যের অনুসরণ করে। এর মানে দাঁড়ায় – পৃথিবী গোল; কেননা কোনো কিছুকে যদি অন্য কিছুর উপর পেচিয়ে দেয়া হয় এবং সেই জিনিসটি যদি পৃথিবীকে ঘিরে পেচানো থাকে, তাহলে পৃথিবীকে অবশ্যই গোল হতে হবে। 

Consensus that the Earth is round" - islamQA (Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid)


https://islamqa.info/en/118698


এ সংক্রান্ত ফতোয়ায় শায়খ বিন বাজ(র.) বলেছেন,


 “আহলুল ইলমদের (আলেমগণ) মতে পৃথিবী গোল। কেননা ইবন হাজম(র.) এবং আলেমদের আরো একটি দল এ ব্যাপারে আহলুল ইলমদের থেকে এটি (পৃথিবী) গোল বলে ইজমা বর্ণনা করেছেন। এর মানে হচ্ছে এর পুরো অংশ এমনভাবে একত্রিত আছে যে সমস্ত গ্রহটিকে একটি গোলকের মতো দেখায়। কিন্তু আমাদের প্রতি দয়াস্বরূপ আল্লাহ এর উপরিভাগকে আমাদের জন্য বিস্তৃত করেছেন, সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন এবং জীব-জন্তু ও সমুদ্র সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেছেনঃ


  وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ


অর্থঃ আর পৃথিবীর দিকে, কীভাবে তা বিস্তৃত করা হয়েছে? আল কুরআন, গাশিয়াহ ৮৮ : ২০


সুতরাং একে আমাদের কাছে জন্য সমতল বলে মনে হয় যাতে এর উপর মানুষ বাস করতে পারে এবং স্বাচ্ছন্দের সাথে থাকতে পারে। এটি গোল তা এর এই সমতল হওয়ার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ কোনো গোল জিনিসের আকৃতি যদি খুব বৃহৎ হয়, তাহলে এর পৃষ্ঠ অনেক প্রসারিত হয়ে যায় (এবং সমতল বলে মনে হয়)। 


শায়খ বিন বাজ(র.) এর ফতোয়ার ওয়েবসাইট থেকেঃ

“كروية الأرض”


https://binbaz.org.sa/fatwas/5966/كروية-الارض

Comments

Popular posts from this blog

মহাকাশে এক বিশাল সমুদ্র

আমি কেন আল্লাহকে মানি ?

মেরাজের যাত্রা টেলিস্কোপ এবং ধারণার বাইরে