এই ছবিটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ধারণ করেছে। নাসার মতে এতে প্রায় ৫৫০০টি উজ্জ্বল বিন্দু দেখা যায়।
এই ছবিটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ধারণ করেছে। নাসার মতে এতে প্রায় ৫৫০০টি উজ্জ্বল বিন্দু দেখা যায়।
বিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে মাত্র চারটি নক্ষত্র; বাকি সবগুলোই আলাদা আলাদা গ্যালাক্সি। অর্থাৎ অবশিষ্ট প্রতিটি বিন্দুই নিজ নিজভাবে একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সি। প্রতিটি গ্যালাক্সির ভেতরে রয়েছে অগণিত নক্ষত্র, গ্রহ ও ব্ল্যাক হোল। তবে প্রতিটি গ্যালাক্সিতে নক্ষত্র ও অন্যান্য বস্তু의 সংখ্যা একরকম নয়—কখনো কম, কখনো অত্যন্ত বেশি। এসব গ্যালাক্সির পারস্পরিক দূরত্ব কল্পনাতীতভাবে বিশাল; এমনকি দুটি বিন্দুর মাঝেও কমপক্ষে এক আলোকবর্ষ বা তার বেশি দূরত্ব রয়েছে—যা মহাবিশ্বের বিস্তৃতির স্পষ্ট প্রমাণ।
জ্যোতির্বিজ্ঞান এমন এক বিজ্ঞান, যা মানুষকে তার প্রকৃত অবস্থান চিনিয়ে দেয় এবং অহংকার ভেঙে দেয়। মানুষ যখন আকাশ ও মহাবিশ্ব নিয়ে চিন্তা করে, তখন নিজের অসহায়তা ও ক্ষুদ্রতা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে। বিশ্বাস করুন, আমি যখনই নিজের অবস্থান ভুলে যেতে শুরু করি, তখন বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সেগানের বই পড়ি—সেগুলো আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে আমরা আসলে কিছুই নই। আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি, তা মহাবিশ্বের তুলনায় অত্যন্ত তুচ্ছ; আর যে নক্ষত্রটির চারদিকে পৃথিবী ঘোরে—সূর্য—সেটিও সমগ্র মহাবিশ্বের মানদণ্ডে খুবই ছোট। এই বিশাল মহাবিশ্ব আমাদের শেখায়—নিজেকে বড় মনে করার ভুল কখনোই করবেন না, কখনো না, একেবারেই না। কারণ মহাবিশ্বের সামনে আমাদের পৃথিবীর কোনো মূল্যই নেই; আমাদের তো প্রশ্নই ওঠে না। তবু কিছু মানুষ নিজের সীমা ভুলে যায়।
আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি, তাকে মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি বলা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে এতে প্রায় চারশো বিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে। কিন্তু এত বিশাল সংখ্যার পরও, মহাবিশ্বের তুলনায় এই গ্যালাক্সির অবস্থান বালির একটি কণার চেয়েও বেশি নয়—হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন ও পড়েছেন। যখন ত্রিশ-চল্লিশটি গ্যালাক্সি একত্র হয়, তখন সেই গ্যালাক্সিসমূহের সমষ্টিকে ‘লোকাল গ্রুপ’ বলা হয়, যেখানে রয়েছে ট্রিলিয়ন সংখ্যক নক্ষত্র। এই সব স্তর ও মাত্রা দেখার পর একটি সত্য একেবারে স্পষ্ট হয়ে যায়—সমগ্র মহাবিশ্বের তুলনায় মানুষ, পৃথিবী, সূর্য এবং আমাদের গ্যালাক্সি—সবকিছুরই অবস্থান অত্যন্ত তুচ্ছ। বরং বলা যায়, এগুলোর কোনো মূল্যই নেই। মহাবিশ্ব এতটাই বিশাল যে, যদি হঠাৎ করে মহাবিশ্ব থেকে আরব-খরব নক্ষত্র হারিয়েও যায়, তবু মহাবিশ্বে তার প্রভাব হবে ঠিক যেমন সমুদ্র থেকে এক গ্লাস পানি পান করলে হয়…!!!
মহাবিশ্ব তার বিস্তৃতিতে সীমাহীন এবং তার সৌন্দর্যে অতুলনীয়। নীলাভ শূন্যে ঝিলমিল করা নক্ষত্র, সোনালি আলো ছড়ানো গ্যালাক্সি এবং নীরবতার ভেতর ঘূর্ণায়মান গ্রহ—সবই প্রকৃতির সেই মহান শিল্পকর্ম, যা বুদ্ধি ও চেতনাকে বিস্ময়ে অভিভূত করে দেয়। এই মহিমান্বিত মহাবিশ্ব কোনো প্রাণহীন শূন্যতা নয়; বরং এটি সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা, ভারসাম্য এবং গভীর রহস্যে পরিপূর্ণ এক পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা, যা প্রতিমুহূর্তে মানুষকে চিন্তা ও মননের আহ্বান জানায়। এত সুসংগঠিত ও সুন্দর সৃষ্টিকে দেখার পরও যদি কেউ দাবি করে যে এর কোনো মালিক নেই, কোনো স্রষ্টা নেই এবং কোনো পরিকল্পনাকারী নেই—তবে তা চোখে দেখেও বাস্তবতাকে অস্বীকার করা ছাড়া আর কিছুই নয়……!!
اردو تحریر تحسین الله خان

Comments
Post a Comment